আমেরিকার দিকে তাক করা মিসাইল! মার্কিন ঘাঁটি ধুলোয় মেশানোর চরম হুঁশিয়ারি ইরানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার আকাশ জুড়ে ফের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীর দখল এবং সামরিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে। শনিবার ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আমেরিকার প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল মোতায়েন করেছে। এই হুমকির ফলে গত ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সংঘর্ষবিরতি এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে।
সংঘাতের নেপথ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার, যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ ছিল। তবে তেহরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, আমেরিকা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। জবাবে আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা
চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফাতেও কোনো পক্ষ অংশ নেয়নি। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যেখানে পারমাণবিক প্রকল্পের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার শর্ত রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের কোনো তেলের ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত করা হলে ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন রণতরী ও ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালানো হবে।
তেহরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের সামরিক অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা পুরোপুরি বিনষ্ট হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে নাকি সরাসরি যুদ্ধ শুরু হবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
