শুভেন্দুর বেতন ২.১০ লক্ষ, মমতার পেনশন কত? জানুন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ও সুযোগ-সুবিধার খতিয়ান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন এই দায়িত্বভার গ্রহণের সাথে সাথেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাঁর প্রাপ্ত বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি এখন জনসমক্ষে। একইসাথে চর্চা শুরু হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত পেনশন ও ভাতার পরিমাণ নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাসিক প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পাবেন। এই আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো বিধায়ক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রী পদের মূল বেতন বাবদ ১ লক্ষ টাকা। এর পাশাপাশি আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে তিনি পাবেন ৫১,৬০০ টাকা। নির্বাচনী এলাকার দাপ্তরিক কাজের জন্য তিনি অতিরিক্ত ৪৮,০০০ টাকা এবং দৈনিক ভাতা হিসেবে মাসিক আরও ৬০,০০০ টাকা প্রাপ্য হবেন। আর্থিক সুবিধার বাইরেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সরকারি বাসভবন, যানবাহন, কর্মী এবং জেড-প্লাস ক্যাটাগরির কঠোর নিরাপত্তা বলয় ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
মমতার প্রাপ্তি ও পেনশনের সমীকরণ
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রশাসনিক জীবনে কখনোই সরকারি বেতন বা ভাতা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আয়ের প্রধান উৎস মূলত শতাধিক বইয়ের রয়্যালটি এবং সংগীত ও চিত্রকর্ম থেকে প্রাপ্ত অর্থ। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য—উভয় হিসেবেই পেনশন পাওয়ার যোগ্য।
হিসাব অনুযায়ী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মাসিক মূল পেনশন ও ভাতা প্রায় ৩১,০০০ টাকা। দীর্ঘ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর সংসদীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মিলিয়ে তাঁর মাসিক পেনশন ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে। পেনশনের পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সরকারি আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধাও ভোগ করবেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যের ক্ষমতার এই পালাবদল কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যয় কাঠামোতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বেতন ও ভাতার এই সুনির্দিষ্ট বিন্যাস পশ্চিমবঙ্গ বেতন ও ভাতা আইন অনুযায়ী কার্যকর হচ্ছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ এই বিপুল সুবিধা যেমন সরকারি কোষাগারের ব্যয়ের অংশ, তেমনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে পেনশনের এই প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার এই পালাবদলে সরকারি সুযোগ-সুবিধার এই বন্টন আগামী দিনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
