আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের রণকৌশল কি এবার ভারতের হাতে? ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় চাঞ্চল্যকর মোড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ইরান। মার্কিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তেহরানের অনমনীয় মনোভাব ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। উন্নত সমরকৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যে বিশ্বশক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব, ইরান তা প্রমাণ করেছে। এই লড়াইয়ে টিকে থাকার সেই বিশেষ অভিজ্ঞতা ও রণকৌশল এবার ভারতসহ বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় তেহরান।
বিকল্প প্রশাসন ও সমরকৌশলের সাফল্য
সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে ইরানের উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিক এই বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। যুদ্ধের চরম মুহূর্তে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু হলেও তেহরান অত্যন্ত গোপনে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিকল্প পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছিল। এই বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামরিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়, যা এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকেও ধন্দে ফেলে দিয়েছিল। তেহরান মনে করে, এই ধরনের সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা যে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক চাপ ও কৌশলগত জলপথের ব্যবহার
ইরানের লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান তুরুপের তাস ছিল পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও চরম অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। মূলত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই বড় মাপের চাপ সৃষ্টির কৌশলই আমেরিকাকে সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভারত ও এসসিও জোটের দেশগুলোর সঙ্গে তেহরান তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে।
এক ঝলকে
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে আমেরিকাকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে ইরান।
সংকটকালীন গোপন বিকল্প প্রশাসনিক পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সচল রাখার কৌশল বিনিময় করতে চায় তেহরান।
হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি ছিল ইরানের সফল সামরিক চাল।
ভারতসহ এসসিও জোটের দেশগুলোর সঙ্গে এই উন্নত সমরকৌশল ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
