স্মার্টফোন স্লো হওয়ার সমস্যায় বিরক্ত, ৮টি সহজ কৌশলে বাড়িয়ে নিন মোবাইলের গতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্মার্টফোন ব্যবহারের কিছুদিন পার হতেই অনেক সময় ডিভাইসের গতি কমে যায়। প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুলতে দেরি হওয়া কিংবা গেম খেলার সময় ল্যাগ করা বর্তমান সময়ের সাধারণ সমস্যা। তবে নতুন ফোন কেনার চিন্তা করার আগে কিছু কারিগরি কৌশল অবলম্বন করলে পুরনো ফোনের পারফরম্যান্স আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মূলত হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয় বরং সফটওয়্যারের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই ফোন ধীরগতির হয়ে পড়ে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ব্লোটওয়্যার অপসারণ
স্মার্টফোনের গতি বজায় রাখতে প্রথম ধাপ হলো স্টোরেজ খালি রাখা। ফোনে এমন অনেক অ্যাপ থাকে যা দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয় না, অথচ এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোনের র্যাম (RAM) দখল করে রাখে। আবার অনেক ফোনে প্রি-ইনস্টল করা কিছু অ্যাপ বা ‘ব্লোটওয়্যার’ থাকে যা অপ্রয়োজনীয়। এসব অ্যাপ আনইনস্টল বা ডিসেবল করে দিলে প্রসেসরের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যায়।
ক্যাশ ডেটা ও মেমোরি ব্যবস্থাপনা
ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের ফলে ফোনে প্রতিনিয়ত টেম্পোরারি ফাইল বা ক্যাশ ডেটা জমা হয়। এই ফাইলগুলো একটা সময় ফোনের মেমোরি জ্যাম করে ফেলে। নিয়মিত ফোনের সেটিংস থেকে ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করলে অপারেটিং সিস্টেম অনেক বেশি হালকা হয়ে যায় এবং কাজ করার গতি বাড়ে।
ডেভেলপার অপশন ও অ্যানিমেশনের প্রভাব
স্মার্টফোনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা অ্যানিমেশন দেখতে ভালো লাগলেও এটি সিস্টেমের গতি কমিয়ে দেয়। ফোনের ‘ডেভেলপার অপশন’ থেকে উইন্ডো এবং ট্রানজিশন অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে ০.৫এক্স (0.5x) করে দিলে ফোন আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত রেসপন্স করবে।
পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ
ডিভাইসের গতি বাড়াতে সফটওয়্যার আপডেট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
- সফটওয়্যার আপডেট: সিস্টেমের বাগ ফিক্স করতে এবং পারফরম্যান্স উন্নত করতে নিয়মিত লেটেস্ট আপডেট ইনস্টল করা উচিত।
- লাইভ ওয়ালপেপার বর্জন: চলন্ত বা লাইভ ওয়ালপেপার ব্যাটারি ও প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। ফোনের গতি বাড়াতে সাধারণ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা শ্রেয়।
- ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা লিমিট: অনেক অ্যাপ পর্দার আড়ালে ডেটা ও প্রসেসর ব্যবহার করে। সেটিংস থেকে এই অপশনটি সীমাবদ্ধ করে দিলে ফোনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
সবশেষে, যদি কোনো পদ্ধতিতেই কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে না আসে, তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ নিয়ে ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ দেওয়া যেতে পারে। এতে ফোনের সফটওয়্যার একদম প্রাথমিক স্তরে ফিরে যায় এবং সব জটিলতা দূর হয়।
এক ঝলকে
- অব্যবহৃত অ্যাপ ডিলিট করে র্যাম খালি করুন।
- নিয়মিত ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার করুন।
- অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে ফোনের রেসপন্স টাইম বাড়ান।
- সিস্টেম সফটওয়্যার সবসময় লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট রাখুন।
- লাইভ ওয়ালপেপারের পরিবর্তে সাধারণ ছবি ব্যবহার করুন।
- প্রয়োজনে ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে ফোন নতুনের মতো করুন।
