আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা! ইরানে কি বড় হামলার প্রস্তুতি ট্রাম্পের?

আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা! ইরানে কি বড় হামলার প্রস্তুতি ট্রাম্পের?

ইরান-মার্কিন সংঘাত: চূড়ান্ত ফয়সালার পথে ট্রাম্পের নতুন কৌশল

ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরতির পুরোনো পথে হাঁটার বদলে ট্রাম্প এখন সরাসরি চূড়ান্ত ফয়সালার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আলোচনা নাকি সামরিক শক্তি, কোন পথে সমাধান?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরান সমস্যার সমাধানে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় কূটনৈতিক আলোচনা, নতুবা সরাসরি সামরিক শক্তির প্রয়োগ। ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের ইতি টানতে আগ্রহী। তাঁর দাবি, ইরানি কট্টরপন্থীদের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। নিজের নেতৃত্বের ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর সময়োচিত পদক্ষেপেই বিশ্ব এক বড় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ইসলামাবাদে কি খুলবে জট?

কূটনৈতিক সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চলতি সপ্তাহের শেষদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ফের মুখোমুখি হতে পারে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা। এর আগে গত সপ্তাহে দীর্ঘ চার দশকের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সাক্ষী হয়েছিল ইসলামাবাদ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বাধীন সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকার দুই কড়া শর্ত

আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই শর্তগুলো মানলে তবেই সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হাঁটবে আমেরিকা। শর্তগুলো হলো:

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না। বাধা দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে আমেরিকা।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধি দলের হাতে পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। বিশেষ করে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’-এর অনুমোদন বা সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো আলোচনাতেই বসতে রাজি নয় ওয়াশিংটন।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে এই রেষারেষি চরমে পৌঁছেছে। জেডি ভ্যান্সের সুস্পষ্ট বার্তা—আমেরিকার শেষ প্রস্তাবের পর এখন বল ইরানের কোটে। ইরান আলোচনার পথ বেছে নেয় নাকি সংঘাতের পথ প্রশস্ত করে, তা স্পষ্ট হবে সামনের দিনগুলোতে।

এক ঝলকে

  • আগামী দু’দিন ইরান-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নাটকীয় হতে পারে বলে মন্তব্য ট্রাম্পের।
  • সমাধানের জন্য আলোচনা বা সামরিক পদক্ষেপ—এই দুটি পথই খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
  • চলতি সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ফের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
  • বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধি পাঠানোর শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
  • ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *