শুভেন্দুর গড়ে ফাটল ধরাতে এবার তৃণমূলের তুরুপ!

শুভেন্দুর গড়ে ফাটল ধরাতে এবার তৃণমূলের তুরুপ!

নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর দুর্গে ফাটল ধরাতে তৃণমূলের তুরুপের তাস ‘ঘরের ছেলে’ পবিত্র কর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সবচেয়ে আলোচিত নাম নন্দীগ্রাম। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাত্র ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করে নন্দীগ্রামকে নিজের অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিলেন। তবে আগামী নির্বাচনে এই সমীকরণ বদলে দিতে তৃণমূল কংগ্রেস এক অভূতপূর্ব রণকৌশল গ্রহণ করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর একসময়ের ঘনিষ্ঠ ও স্থানীয় নেতা পবিত্র করকে প্রার্থী করে তৃণমূল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিরোধী দলনেতার সামনে।

বিজেপির অন্দর থেকে তৃণমূলে পদার্পণ

পবিত্র কর দীর্ঘ সময় ধরে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হন। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নাটকীয় পটপরিবর্তনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে বড় চমক দেয়।

শুভেন্দুর কড়া অবস্থান ও আইনি জটিলতা

নিজের প্রাক্তন অনুগামীকে প্রার্থী হিসেবে দেখে শুভেন্দু অধিকারী বেশ সরব। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই আগের চেয়েও সহজ হবে। পবিত্র করকে লক্ষ্য করে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময় পবিত্রর কোনো ভূমিকা ছিল না।

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এই লড়াই পৌঁছেছে আইনি দরজায়। বিজেপির অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্য পদ থেকে যথাযথ পদত্যাগ না করেই পবিত্র কর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই তথ্য গোপন করার অভিযোগে বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করা হয়েছে এবং পবিত্রর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তৃণমূল প্রার্থী ওই এফআইআর খারিজের দাবিতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তৃণমূলের রণকৌশল ও জনমত

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে তৃণমূল হাই কমান্ড বিশেষ কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পবিত্র করের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, পবিত্র কর নিজেকে ‘ঘরের ছেলে’ বা মাটির সন্তান হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, দীনবন্ধুপুর থেকে বয়াল—প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ তত বাড়ছে। স্লোগান ও প্রতি-স্লোগানে সরগরম নন্দীগ্রামের আকাশ-বাতাস। এখন দেখার বিষয়, ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধান ঘুচিয়ে তৃণমূল পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না, নাকি নিজের দুর্গ রক্ষা করে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

এক ঝলকে

  • প্রার্থী চমক: শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন অনুগামী ও প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র কর এবার তৃণমূলের প্রার্থী।
  • দলবদল: ২০২৬ সালের মার্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র।
  • আইনি বিবাদ: পঞ্চায়েত সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার অভিযোগে পবিত্রর বিরুদ্ধে মামলা।
  • শুভেন্দুর দাবি: লড়াই এবার গতবারের চেয়েও সহজ হবে, তৃণমূল প্রার্থীর আন্দোলনের ইতিহাসে কোনো অবদান নেই।
  • তৃণমূলের অবস্থান: ‘ঘরের ছেলে’ পবিত্র করের মাধ্যমে শুভেন্দুর গড়ে ফাটল ধরানোই মূল লক্ষ্য।
  • গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: আগামী ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *