‘ইজ় ইট ওকে?’: শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেন বক্তব্য থামালেন মোদী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 13, 20265:33 pm
নয়াদিল্লি: ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সম্মেলনের সমাপ্তি ভাষণে বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই নিজের বক্তৃতা থামিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ঘাড় ঘুরিয়ে সরাসরি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে তাঁকে ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ইজ় ইট ওকে?’ (সব ঠিক আছে তো?)। দূরদর্শনের শেয়ার করা এই মুহূর্তের ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল ভারত মণ্ডপমে? সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় আচমকাই শি জিনপিংয়ের পাশে বসা কর্মকর্তা ও দোভাষীদের কিছুটা ব্যস্ত ও অস্বস্তিতে পড়তে দেখেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি নিজের বক্তৃতা থামিয়ে চিনের রাষ্ট্রপ্রধানের অনুবাদকের দিকে তাকান এবং জানতে চান কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। কয়েক সেকেন্ড পর শি জিনপিং মাথা নেড়ে সম্মতি জানান এবং ধন্যবাদ দেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মোদী তাঁর আসামাপ্ত ভাষণ পুনরায় শুরু করেন।
যদিও এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারিভাবে জানানো হয়নি, তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ইয়ারফোন বা মাইক্রোফোনের গন্ডগোল কিংবা লাইভ অনুবাদ সংক্রান্ত কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও শান্তির বার্তা এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুদ্ধ থামানোর লক্ষে মধ্যস্থতা ও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুজনেই। সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই শান্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট দুই নেতার এই ইতিবাচক মনোভাব ও মধ্যস্থতার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা ব্রিকস সম্মেলনের সমাপ্তি ভাষণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহনশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ বা বিরল খনিজ সম্পদকে (Critical Minerals) কোনোমতেই সংকীর্ণ স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি যৌথ অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রযুক্তির আদান-প্রদান ও গ্রহণে সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।
