ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি আমেরিকার, ফের কি যুদ্ধের দামামা?

ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক: কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কি ফিরছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী?
দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা আর সংঘাতের আবহে আবারও আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আমেরিকা ও ইরানের। মধ্যপ্রাচ্যের টালমাটাল পরিস্থিতিতে দুই দেশের আসন্ন বৈঠককে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক আলোচনার মাধ্যম হতে পারে পাকিস্তান।
দুজনের সম্মতির অপেক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের রাস্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে এই আলোচনার জন্য ইরানকে দুটি কঠোর শর্ত মেনে চলার বার্তা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রথমত, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। আমেরিকার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ইরান কোনো জাহাজ আটকালে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের প্রতিনিধি দলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শাখা ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’-এর অনুমোদন ছাড়া কোনো আলোচনার ফলাফল মানতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই ও জটিলতা
আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দ্বিধাবিভক্তি। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী। কিন্তু দেশটির কট্টরপন্থী সামরিক নেতারা এই আলোচনার তীব্র বিরোধী। সম্প্রতি ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কোনো ठोस সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বড় পরিবর্তনের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনার প্রচেষ্টা। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে আবারও দুই পক্ষ বসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অভ্যন্তরীণ চাপ কাটিয়ে তেহরান আমেরিকার শর্ত মেনে শান্তি স্থাপন করে কি না, নাকি সামরিক কট্টরপন্থীদের প্রভাবে সংঘাতের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ফলাফলের দিকে।
এক ঝলকে
- লক্ষ্য: দীর্ঘ শত্রুতা মিটিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা।
- মধ্যস্থতাকারী: আলোচনা সফল করতে পাকিস্তানের ভূমিকার ওপর নজর রাখছে বিশ্ব।
- আমেরিকার শর্ত: পারস্য উপসাগরে মুক্ত চলাচল বজায় রাখা এবং প্রতিনিধি দলের পূর্ণ সিদ্ধান্তের অধিকার।
- প্রধান বাধা: ইরানের নরমপন্থী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কট্টরপন্থী সামরিক নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য।
- সময়সীমা: আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইসলামাবাদে আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা।
