ইরানকে সরাসরি নরকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! ঘনীভূত হচ্ছে পরমাণু যুদ্ধের মেঘ

হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নিজের পরিচিত আক্রমণাত্মক মেজাজে বিশ্ব রাজনীতি কাঁপাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর সরাসরি নিশানায় তেহরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মেজাজ হারিয়ে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই রণংদেহি মনোভাবের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন পরমাণু যুদ্ধের কালো মেঘ দেখছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না সাফ বার্তা ট্রাম্পের
পারস্য উপসাগর এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একাধিপত্য নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ আমেরিকা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানকে বিভিন্ন দেশ যে বিশেষ সুবিধা বা পরোক্ষ ‘টোল’ দিয়ে আসছিল, তাকে সরাসরি ‘তোলাবাজি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা আর কাউকে এমন অবৈধ সুবিধা দেবে না। ট্রাম্পের মতে, ভয় দেখিয়ে ফায়দা তোলার দিন এখন শেষ।
কেন হঠাৎ উত্তেজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ক্রোধের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে:
- পাকিস্তানের ব্যর্থ মধ্যস্থতা: ট্রাম্প আশা করেছিলেন তেহরানের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে পাকিস্তান কার্যকর ভূমিকা নেবে। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন।
- হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের তেলের বাজারের বিশাল অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ইরান প্রায়ই এই পথ বন্ধ করার হুমকি দেয়, যা মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী। ট্রাম্প এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব চিরতরে মুছে ফেলতে মরিয়া।
নরকে পাঠিয়ে দেব ট্রাম্পের বিস্ফোরক হুমকি
একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আমেরিকা আর কাউকে তোলা দেবে না। আমাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে ইরানকে এমন জায়গায় পাঠাব যার নাম নরক!” তাঁর এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল মৌখিক হুমকি নয়, বরং সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি সুনিশ্চিত ইঙ্গিত।
যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব
ট্রাম্পের এই সরাসরি ধ্বংসের হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি এই উস্কানির পাল্টা জবাব দেয়, তবে আরব সাগরে বড়সড় যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। ২০২৬ সালের এই বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতিতে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইরানকে ‘নরকে পাঠিয়ে দেওয়ার’ সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক ‘তোলাবাজি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
- পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরেই ট্রাম্প এই রণংদেহি মেজাজ ধারণ করেন।
- আমেরিকা আর কোনো প্রকার ‘টোল’ বা সুবিধা ইরানকে দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা।
- ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।
