খাবারে ঋতুস্রাবের রক্ত মিশিয়ে কালো জাদু! স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর হাড়হিম করা অভিযোগ

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক ব্যক্তির করা অভিযোগ সাধারণ পারিবারিক বিবাদের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় হাজির হয়ে স্বামী যে দাবি করেছেন, তা শুনে দুঁদে পুলিশকর্তারাও কার্যত হতবাক। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী নিয়মিত খাবারে ঋতুস্রাবের রক্ত মিশিয়ে তাঁকে খাওয়াতেন এবং তাঁর ওপর দীর্ঘ দিন ধরে কালো জাদু বা তন্ত্রমন্ত্র প্রয়োগ করে আসছিলেন। এই ঘটনা সম্পর্কের চরম অবনতি ও বিকৃত মানসিকতার এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।
শারীরিক অসুস্থতা ও সংক্রমণের চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিযোগকারী স্বামী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অস্বাভাবিক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হতো। সন্দেহ দানা বাঁধায় তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং মেডিকেল পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অংশে প্রদাহ ও ফোলাভাব সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর দাবি, তাঁর স্ত্রী খাবারে ঋতুস্রাবের রক্ত মিশিয়ে দেওয়ার কারণেই তাঁর জীবন আজ সংকটাপন্ন।
পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
গাজিয়াবাদের কবি নগর থানায় ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৮ ধারা (বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি করা) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেলা চিকিৎসা আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে পুলিশ। এই রিপোর্ট হাতে পেলেই বিষপ্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দাম্পত্য কলহ ও কালো জাদুর নেপথ্যে
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রী শুরু থেকেই শ্বশুর-শাশুড়িকে ছেড়ে আলাদা থাকার জন্য চাপ দিতেন। তাঁকে নিজের বশে রাখতেই স্ত্রী নিয়মিত তন্ত্রমন্ত্র ও তুকতাক করতেন বলে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন। এই দীর্ঘদিনের অশান্তিই শেষ পর্যন্ত এমন কুরুচিকর ও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
সামাজিক উদ্বেগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক বিবাদ যখন ব্যক্তিগত পরিসর ছাড়িয়ে এ ধরনের বিকৃত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তা সামাজিক উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মেডিকেল রিপোর্টের চূড়ান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- গাজিয়াবাদে স্ত্রীর বিরুদ্ধে খাবারে ঋতুস্রাবের রক্ত মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ানোর অভিযোগ।
- মেডিকেল পরীক্ষায় স্বামীর শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ফোলাভাব ধরা পড়েছে।
- স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিষপ্রয়োগ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
- ২০১৫ সালে বিয়ের পর থেকেই আলাদা থাকা নিয়ে দম্পতির মধ্যে চরম বিবাদ চলছিল।
- স্বামীকে নিজের বশে রাখতে স্ত্রী নিয়মিত কালো জাদু করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
