টাকার লোভে স্ত্রীকে ১২০ পুরুষের বিছানায় পাঠাল স্বামী!

সুইডেনে অমানবিকতা: স্ত্রীকে ১২০ জনের কাছে বিক্রি করলেন স্বামী, সামনে এল পৈশাচিক সত্য
ইউরোপের উন্নত দেশ সুইডেনে সম্প্রতি এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। নিজের স্ত্রীকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে ১২০ জন পরপুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ফ্রান্সের কুখ্যাত ‘গিসেল পেলিকট’ মামলার ভয়াবহতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তিন বছরের পৈশাচিক কারবার ও অর্থ উপার্জন
তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নির্মম নির্যাতনের সূচনা হয় ২০২২ সালে। অভিযুক্ত স্বামী ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন অনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ করত। এরপর নিজের স্ত্রীকে সেই পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় বাধ্য করত এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরুষরা ওই মহিলার কাছে আসত এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারির জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয় রেখেছিল।
ভয় এবং ড্রাগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
ভুক্তভোগী স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত অমানবিক পথ অবলম্বন করেছিলেন স্বামী। তদন্তকারীদের মতে, স্ত্রীর প্রতিবাদের ভাষা স্তব্ধ করতে তাকে প্রায়ই নেশাজাতীয় ওষুধ বা ড্রাগ দেওয়া হতো। আদালতের শুনানিতে সরকারি আইনজীবী জানান, স্ত্রী রাজি না হলে তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার এবং সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়া হতো। অসহায়তা এবং চরম ভয়ের সুযোগ নিয়ে টানা তিন বছর ধরে এই পৈশাচিক কারবার চালানো হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও অভিযুক্তের দাবি
২০২৫ সালের অক্টোবরে নির্যাতিতা মহিলা সাহসের সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে এই অন্ধকার জগত প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং গুরুতর শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের সামনে দাবি করেছেন যে, সবকিছুই সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে এবং তিনি কেবল ‘ব্যবস্থাপনা’ বা আয়োজনে সাহায্য করেছেন। পুলিশ বর্তমানে ওই ১২০ জন পুরুষের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে যারা এই অপরাধে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্লেষণ: উন্নত সমাজে গোপন সহিংসতা
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, উন্নত জীবনমান এবং সামাজিক কাঠামোর আড়ালেও ঘরোয়া সহিংসতা ও যৌন শোষণ কতটা গভীরে শিকড় গেড়ে থাকতে পারে। যেখানে জীবনসঙ্গীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে স্বামীই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠেন, তখন নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি এই ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর আইন এবং সামাজিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে এই মামলাটি আবারও সামনে এনেছে।
এক ঝলকে
- অভিযোগ: সুইডেনে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি স্ত্রীকে যৌন ব্যবসায় নামিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন।
- ভয়াবহতা: প্রায় ১২০ জন পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ।
- সময়কাল: ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পৈশাচিক নির্যাতন চলে।
- নির্যাতনের ধরন: স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ড্রাগের ব্যবহার এবং পুড়িয়ে মারার হুমকি।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন; ১২০ জন গ্রাহককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
