ইরানি বন্দরে মার্কিন সাঁড়াশি অভিযান, বিশ্ব বাণিজ্যে কি নেমে এলো ধস!

ইরানি বন্দরে মার্কিন সাঁড়াশি অভিযান, বিশ্ব বাণিজ্যে কি নেমে এলো ধস!

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধে থমকে বিশ্ব বাণিজ্য

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোতে নজিরবিহীন নৌ-অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক তৎপরতা কেবল আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গভীর ছায়া ফেলেছে।

সেন্টকমের সামরিক কৌশল ও কঠোর অবস্থান

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম এই নজিরবিহীন অভিযানে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্যকে মাঠে নামিয়েছে। ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের মিলনস্থলে মার্কিন বাহিনীর তৈরি করা এই প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছে সেন্টকম। অভিযানে ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ ও অসংখ্য সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নির্দেশে অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতির তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মার্কিন এই অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা গতানুগতিক সাপ্লাই চেইনকে বাধাগ্রস্ত করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ও সংকটের কারণ হতে পারে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথ উদ্যোগে আগামী শুক্রবার প্যারিসে ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো একটি ‘বহুপাক্ষিক ও রক্ষণাত্মক মিশন’ গঠন করা, যেন বৈশ্বিক জ্বালানি রুটটি সচল রাখা যায়।

ভারতের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার এই বার্তার আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে, সংকটটি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও আমেরিকা আশ্বস্ত করেছে যে, অ-ইরানি বন্দর থেকে আসা জাহাজ চলাচলে তারা বাধা সৃষ্টি করবে না।

এক ঝলকে

  • ইরানি বন্দর অভিমুখে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজের নজিরবিহীন নাকেবন্দি শুরু হয়েছে।
  • সেন্টকমের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ব্যূহের মধ্য দিয়ে কোনো জাহাজই সফলভাবে পার হতে পারেনি।
  • মার্কিন নির্দেশে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার ফ্রান্স ও ব্রিটেনের আহ্বানে প্যারিসে ৪০ দেশের জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
  • ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *