ভোটের আগে চাপে তৃণমূল, কী বললেন অভিষেক?

মালদা ও মুর্শিদাবাদ দখলে মরিয়া তৃণমূল: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা ও নতুন রণকৌশল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। কংগ্রেস, মিম এবং একাধিক নতুন দলের উপস্থিতিতে এই দুই জেলায় ভোটব্যাংকের লড়াই এখন ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং রণকৌশল নির্দিষ্ট করতে আসরে নেমেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেতাদের বিশেষ সতর্কবার্তা
সম্প্রতি দলীয় নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মালদা ও মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও বার্তা দুই-ই প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তাঁর মতে, এই দুই জেলায় লড়াই অত্যন্ত কঠিন। তাই ভোটারদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছানোই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেসে ভোট দেওয়া মানে কার্যত বিজেপিকেই সুবিধা করে দেওয়া। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেস সর্বভারতীয় স্তরে বা অন্য কোথাও বিজেপিকে রুখতে কতটা সফল হয়েছে? পাশাপাশি, কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের আশঙ্কা নিয়েও ভোটারদের সতর্ক থাকার কথা বলেছেন তিনি।
মানুষের দুয়ারে তৃণমূলের প্রকল্প
নির্বাচনের ঠিক আগে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রচারের ওপর বাড়তি জোর দিচ্ছেন অভিষেক। তিনি দলের নিচুতলার কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন প্রতিটি গ্রামে ছোট ছোট বৈঠক করতে হবে। কর্মীদের মূল কাজ হবে মানুষকে বোঝানো যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবশ্রীর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ। কেন্দ্রের এতে কোনো ভূমিকা নেই এবং তৃণমূল ক্ষমতায় না থাকলে এই সুবিধাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজেপি ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হলেও বিজেপির নেতাদের ক্ষেত্রে কমিশনের এমন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ
নিজের দলের নেতাদেরও কড়া বার্তা দিতে ছাড়েননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী ১৫ দিনের কাজের ওপর। ভালো ফলের ক্ষেত্রে যেমন পুরস্কৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনই খারাপ ফলের দায় নিয়ে ভবিষ্যতে টিকিট না পাওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। শুধু বড় বড় সভার চেয়ে বুথস্তরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং নির্দিষ্ট এলাকা থেকে লিড পাওয়ার ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
এক ঝলকে
*মালদা ও মুর্শিদাবাদে কঠিন লড়াইয়ের মোকাবিলায় সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
*ভোটারদের বোঝাতে হবে, কংগ্রেসকে ভোট দিলে আখেরে লাভবান হবে বিজেপি।
*লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রীর মতো প্রকল্পের উপযোগিতা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ।
*কমিশনের ভূমিকা ও বিরোধী দলের অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।
*দলীয় নেতাদের কাজের নিরিখেই নির্ধারিত হবে আগামীর টিকিট বণ্টন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
