ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’, বেজিং সফরের আগে হুঙ্কার ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতির সব প্রচেষ্টা বর্তমানে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের উদ্যোগ এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বেজিং সফরের আগে কূটনৈতিক চাপ
আগামীকাল বুধবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চিন যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের কথা রয়েছে। জানা গেছে, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে দেওয়া চিনের সামরিক ও কৌশলগত সমর্থন বন্ধ করা। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে বেজিংয়ের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে। তবে সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন তাদের চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
শর্তের বেড়াজালে থমকে আছে শান্তি
পাকিস্তান মারফত পাঠানো ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ঘিরেই মূলত নতুন এই উত্তেজনার সৃষ্টি। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে তাদের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের অখণ্ডতা মেনে নেওয়ার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরমাণু ইস্যু ও সম্ভাব্য প্রভাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষ করে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কারণ ইরানের প্রস্তাবে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান আসলে পরোক্ষভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ারই বার্তা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি চিন সফরে এই সংকটের কোনো সমাধান সূত্র না মেলে, তবে আগামী দিনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
