“বাংলার মা-ভাই-বোনদের কল্যাণই আমার কাছে সবার আগে”, আয়ুষ্মান ভারত চালুর পর বিশেষ বার্তা মোদির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরদিনই রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলার মানুষের কল্যাণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের কর্মতৎপরতা ও প্রশাসনিক রদবদল
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের কথা উল্লেখ করে জানান, এখন থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সুবিধা সরাসরি এবং নির্বিঘ্নে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নবান্নে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন খামতিগুলো পূরণ করাই তাঁর অগ্রাধিকার। বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে অমীমাংসিত ছিল।
সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানে বড় ঘোষণা
রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে নতুন মন্ত্রিসভা। সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবেদনের বয়সসীমা এক ধাক্কায় পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্যে চলমান কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। বরং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর করা এবং রাজ্যের আইএএস-আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জননিরাপত্তা
স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন সরকার। আগামী সোমবার পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আরজি কর কাণ্ড এবং নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা দখলের শুরুতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো চালু করে নতুন সরকার রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের সূচনা করল।
