“বিজেপির বাংলায় তৃণমূল করা কি তবে অপরাধ?” কর্মী খুনে মোদী-শাহকে তোপ অভিষেকের – এবেলা

“বিজেপির বাংলায় তৃণমূল করা কি তবে অপরাধ?” কর্মী খুনে মোদী-শাহকে তোপ অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই ঘাসফুল শিবিরের ওপর নেমে এসেছে হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিজেপির মদতপুষ্ট বাহিনীর নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তৃণমূলের দুই সক্রিয় কর্মী। সপ্তগ্রামের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন শিকদারকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে তোপ

দলীয় কর্মীদের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপির শাসনাধীন বাংলায় তৃণমূল করা কি এখন মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো? তাঁর মতে, রাজ্যে যখন একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটছে, তখন পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, যখন সাধারণ মানুষ অরাজকতার শিকার হচ্ছেন, তখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উৎসব পালন কিংবা বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এমনকি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী যখন পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আগামীর প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে যে রদবদল ও ধরপাকড় শুরু হয়েছে, তার পাল্টা হিসেবেই ‘আক্রান্ত’ তকমা নিয়ে জনমত গঠন করতে চাইছে তৃণমূল। বিশেষ করে খেজুরিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং দুই কর্মীর মৃত্যুতে ‘ডবল ইঞ্জিন ডিজাস্টার’ কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক জাতীয় স্তরে বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি জনমানসেও প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *