‘একজন সংবেদনশীল নাগরিক এমন করতে পারেন না?’ শ্রীলেখার ভূমিকা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ বিচারপতির – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুরুচিকর ছবি ব্যবহার এবং প্রতিবাদ মিছিলে তা প্রদর্শনের ঘটনায় আইনি চাপে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টেও চরম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীর আচরণকে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলে, একজন সংবেদনশীল ও সুস্থ নাগরিক কী করে এমন ছবি পোস্ট করতে পারেন বা রাস্তায় নিয়ে ঘুরতে পারেন?
“একজন সুস্থ নাগরিক এ রকম ছবি নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে পারেন? কার্টুন বা অন্য যাই হোক, কেন একজন সংবেদনশীল নাগরিক এমন একটা ছবি পোস্ট করবেন?” — প্রশ্ন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতের।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে শ্রীলেখার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করেন যে, আনন্দপুর থানার তলবে তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই হাজিরা দিয়েছেন। এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘রুচিহীন ছবি আপলোড করা হয়েছে এবং এর মধ্যে উস্কানি রয়েছে।’ এর জবাবে বিকাশরঞ্জন দাবি করেন যে ছবি রুচিহীন হলেও তা সবসময় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না।
আদালতের রক্ষাকবচ ও কড়া নির্দেশিকা:
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত আপাতত কোনো মামলাতেই শ্রীলেখাকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে রক্ষাকবচ প্রদান করে। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভিন্ন ধর্ম বা জাতির প্রতি কুৎসা রটানোর ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল আইনের ধারা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা একসঙ্গে যুক্ত করে আনন্দপুর থানার মামলার সঙ্গে তদন্ত চালাতে হবে।
তদন্তে সহযোগিতা করলে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তাঁকে তলব করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। তিনি সহযোগিতা না করলে পুলিশ সরাসরি হাইকোর্টকে জানাবে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে এবং আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।
বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা:
সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে কুৎসা রটানোর অভিযোগ শ্রীলেখার বিরুদ্ধে নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কটূক্তি করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। তবে গত জুলাই মাসে কলকাতায় একটি প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত ছবি হাতে নিয়ে পথে নামার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। পরবর্তীতে বিজেপি কর্মীদের দায়ের করা ১৬টি এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
