একদিকে তীব্র বন্যা আর অন্যদিকে রেকর্ডের খরা, দেশে এল নিনোর মারাত্মক প্রভাব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপের জেরে আসাম, গুজরাত কিংবা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাংশ যখন দু’দফায় বন্যায় প্লাবিত, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনোর ধাক্কায় এক অদৃশ্য মহাবিপদের মুখে দেশ। বাইরের বন্যা পরিস্থিতি দেখে অনুমান করা কঠিন হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে খরার দাপটে কার্যত শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সারা দেশে বৃষ্টির ঘাটতি ১৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিগত ১২৫ বছরের ইতিহাসে অন্যতম শুষ্কতম বর্ষার রেকর্ড তৈরি করল। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির এই বিশাল বৈষম্যকে বিশেষজ্ঞরা মানবশরীরের ‘ইন্টারনাল হেমারেজ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার দরুন ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও গাঙ্গেয় অঞ্চলে সাময়িক বৃষ্টি মিললেও রক্ষা পায়নি মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব বা চেরাপুঞ্জির মতো অঞ্চলগুলো। দেশের প্রায় ৩৮ শতাংশ জেলাই বর্তমানে তীব্র বৃষ্টির ঘাটতিতে ভুগছে, যার ফলে নদী-নালা শুকিয়ে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ুর এই চরম বৈপরীত্য ও খরার প্রভাবে খরিফ শস্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের আশঙ্কা অনুযায়ী প্রায় ২৬ লক্ষ টন ফসল উৎপাদন কম হতে পারে। এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আসন্ন রবি মরশুম নিয়েও চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন দেশের কৃষক থেকে শুরু করে আবহাওয়াবিদরা।
