এটা মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ!’ অভিষেক-কাণ্ডে দিলীপের বিস্ফোরক যুক্তি – এবেলা

এটা মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ!’ অভিষেক-কাণ্ডে  দিলীপের বিস্ফোরক যুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও ডিম ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ, যার ফলে তিনি চোখে আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেক একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই প্রতিফলন

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগসূত্র থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা। বিজেপির শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, এই হামলা কোনো রাজনৈতিক দলের উসকানিতে হয়নি, বরং এটি গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের ‘বর্বরতা’ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য না হলেও, তৃণমূল বাংলায় যে সংস্কৃতি তৈরি করেছিল, আজ তারা নিজেরাই তার শিকার হচ্ছে। ২২টি গাড়ির কনভয় নিয়ে এলাকায় গিয়ে ‘নায়ক’ সাজার চেষ্টার কারণেই সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে মনে করছেন বিরোধী নেতারা।

তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজেপির এক কর্মীকে পাথর ছুড়তে দেখা গেছে বলে দাবি করলেও, বিরোধীরা তাকে ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও এই ঘটনায় তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ নয়, বরং এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাড়তে থাকা গভীর রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *