এভারেস্টে জয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড! ‘ডেথ জোন’ জয় করে শৃঙ্গে হুগলির শুভম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রেকর্ড ভাঙা চূড়ায় বাঙালির জয়কেতন, এভারেস্টে নতুন ইতিহাস
চলতি মরশুমে বিশ্বখ্যাত মাউন্ট এভারেস্টের বুকে তৈরি হলো এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড। বছরের এই সময়ে পর্বত আরোহণের জন্য আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এক অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষী থাকল পর্বতপ্রেমী বিশ্ব। জানা গেছে, রেকর্ড সংখ্যক ২৭০ জন পর্বতারোহী ও শেরপা গাইড সফলভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। এর আগে ২০১৯ সালে এভারেস্ট জয়ের যে রেকর্ড ছিল, আরোহীদের এই সম্মিলিত দল সেই আগের সমস্ত পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
মরণক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ ও বাঙালির গৌরব
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,০০০ মিটারের ঊর্ধ্বের অংশ, যা পর্বতারোহণের ভাষায় ‘ডেথ জোন’ বা মরণক্ষেত্র নামে পরিচিত, সেখানে এবার আরোহীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তীব্র ঠাণ্ডা আর অক্সিজেনের অভাবের মতো চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হাল ছাড়েননি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শুভম চট্টোপাধ্যায়। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এভারেস্টের শীর্ষে আরোহণ করে জয়ীদের দলে নিজের নাম শামিল করেছেন। শুভমের এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ উত্তরপাড়া পুরসভা তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেকর্ডের কারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
হঠাৎ আবহাওয়া শান্ত হওয়া এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়াই একসাথে এত মানুষের এভারেস্ট জয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই জয়ের ফলে শুভমের ব্যক্তিগত লক্ষ্য অনেকটাই এগিয়ে গেল। সবচেয়ে কম বয়সে ও সবচেয়ে কম সময়ে বিশ্বের সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (সেভেন সামিটস) এবং সাতটি সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি (সেভেন ভলক্যানিক সামিটস) জয়ের যে কঠিন লক্ষ্য তিনি স্থির করেছেন, এভারেস্ট জয় ছিল তার অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই রেকর্ড সৃষ্টিকারী মরশুমটি আগামী দিনে পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মাউন্ট এভারেস্টে অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে চলতি মরশুমে রেকর্ড ২৭০ জন আরোহী ও গাইড চূড়া জয় করেছেন।
- ভেঙে গেছে ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী এভারেস্ট আরোহণের বিশ্বরেকর্ড।
- ‘ডেথ জোন’-এর চরম প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ লাইন ডিঙিয়ে এভারেস্ট জয় করেছেন হুগলির শুভম চট্টোপাধ্যায়।
- কম সময়ে ‘সেভেন সামিটস’ ও ‘সেভেন ভলক্যানিক সামিটস’ জয়ের লক্ষ্যে শুভমের এই সাফল্য একটি বড় পদক্ষেপ।
