এশিয়ান গেমসে যোগ্যতা অর্জনের পরই সতীর্থের হাতে খুন প্যারা অ্যাথলিট, তীব্র চাঞ্চল্য উত্তরপ্রদেশে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় স্তরে সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। সম্প্রতি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতে এশিয়ান প্যারা গেমসের ছাড়পত্র পাওয়া দেশের অন্যতম প্রতিভাবান প্যারা অ্যাথলিট চিরাগ ত্যাগীর গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই যশ খাটিক নামে তাঁরই এক প্রাক্তন সতীর্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের ক্রীড়ামহলে এই ঘটনা তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
পেশাগত ঈর্ষা ও প্রতিশোধের জের
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে গভীর পেশাগত ঈর্ষা ও প্রতিশোধের স্পৃহা। এক সময় চিরাগ ও যশ একসঙ্গেই অনুশীলন করতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে যশের নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকার বিষয়ে অভিযোগ তোলেন চিরাগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যশকে প্রতিযোগিতা থেকে ডিসকোয়ালিফাই বা বহিষ্কার করা হয়। নিজের ক্রীড়া জীবন থমকে যাওয়ার জন্য চিরাগকে দায়ী করে তাঁর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন যশ। গত বুধবার হস্টেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর নিখোঁজ হন চিরাগ। তদন্তকারীদের অনুমান, সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্জন স্থানে চিরাগকে ডেকে এনে একাধিক গুলি করে খুন করেন যশ।
ক্রীড়াক্ষেত্রে নক্ষত্রপতন ও সম্ভাব্য প্রভাব
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতের অন্যতম প্রধান পদক পদপ্রার্থী ছিলেন চিরাগ ত্যাগী। ৪০০ মিটারের ট্র্যাকে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেশকে বড় স্বপ্নের আলো দেখাচ্ছিল। তবে এই অকালপ্রয়াণ শুধু ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনাই নষ্ট করল না, বরং ক্রীড়াবিদদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা কোন ভয়াবহ স্তরে পৌঁছাতে পারে, সেই কলঙ্কিত অধ্যায়কেও সামনে এনে দিল। এই ঘটনার পর প্যারা অ্যাথলিটদের নিরাপত্তা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
