কটা ছোট ভুলেই ফুল আসে না গাছে! এই সহজ কৌশল জানলেই বদলে যাবে সব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অনেক যত্ন নেওয়ার পরেও টবের গাছে ফুল না ফোটার সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশ ছাদ ও ব্যালকনি বাগানপ্রেমীরা। সাধারণত গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করাই এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজার থেকে কেনা সাধারণ সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা গাছের পাতা ও ডালপালা ঝাঁকড়া করলেও ফুল ফোটার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে গাছ সবুজ ও সতেজ হলেও কুঁড়ির দেখা মেলে না।
ফুল না ফোটার কারণ ও প্রতিকার
পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব গাছের ফুল না ফোটার আরেকটি বড় কারণ। জবা, গোলাপ বা অপরাজিতার মতো ফুল গাছের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা কড়া রোদের প্রয়োজন হয়। আলো-ছায়ার পরিবেশে গাছ বেঁচে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ফুল পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া টবের মাটি সারাক্ষণ ভেজা থাকলে গাছ অলস হয়ে পড়ে এবং ফুল ফোটানোর চেয়ে পাতার বৃদ্ধিতে শক্তি অপচয় করে। এই সমস্যা সমাধানে নাইট্রোজেনযুক্ত সার বন্ধ করে পটাশিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ সার ব্যবহার করতে হবে এবং টবটিকে বাড়ির সবচেয়ে রোদযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা জরুরি।
সহজ পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক বুস্টার
গাছে ফুল আনার জন্য মাঝে মাঝে জল দেওয়া কমিয়ে মাটিতে সাময়িক শুষ্কতা বা ‘ওয়াটার স্ট্রেস’ তৈরি করতে হয়। টবের ওপরের মাটি শুকিয়ে পাতা সামান্য নুয়ে পড়ার পর জল দিলে গাছ দ্রুত ফুল ফোটাতে উদ্বুদ্ধ হয়। পাশাপাশি, ধারালো কাঁচি দিয়ে গাছের শুকনো ও পুরনো ডালপালা ছাঁটাই বা প্রুনিং করলে নতুন কচি ডাল গজায় এবং সেখানে দ্রুত কুঁড়ি আসে।
রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া উপাদান দিয়ে সহজেই বুস্টার তৈরি করা সম্ভব। কলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে কিংবা ৩-৪ দিন জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল গাছে দিলে প্রচুর পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যবহৃত চায়ের পাতা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে মাটিতে মেশালে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পায়, যা বিশেষত জবা ও গোলাপ গাছের ফুল ফোটাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সঠিক রোদ, পরিমিত জল এবং প্রাকৃতিক পরিচর্যার মাধ্যমেই বাগানকে ফুলে ফুলে ভরিয়ে তোলা সম্ভব।
