কলকাতার স্কুলে এবার ইসকনের মিড-ডে মিল! ৫০ হাজার পড়ুয়ার পুষ্টিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুষম পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তারাতলায় ইসকনের (অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন) অত্যাধুনিক ‘মেগা কিচেন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম পর্যায়তেই কলকাতার ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী এই উন্নত মানের পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের সুবিধা পাবে।
উদ্বোধনে চমক ও আধুনিক পরিকাঠামো
অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশেষ যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামোর রান্নাঘরটি ঘুরে দেখেন। মহারাজ ও রাঁধুনিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি নিজেও হাতা-খুন্তি হাতে নিয়ে মিড-ডে মিল রান্নায় সাহায্য করেন। স্কুলগুলিতে গরম খাবার দ্রুত পৌঁছে দিতে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়িরও শুভ সূচনা করা হয়।
ডিম বিতর্ক ও সরকারের স্পষ্ট অবস্থান
ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ওঠা ‘ডিম বিতর্ক’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনো রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
- মেনু পরিকল্পনা: ইসকনের তৈরি বিশুদ্ধ নিরামিষ খাবারে থাকছে ডাল, রাজমা, সয়াবিন, পনির ও মরসুমি ফল।
- ডিম সরবরাহ: ইসকনের নিরামিষ ঐতিহ্যের ক্ষতি না করে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ২ দিন আলাদাভাবে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হবে।
এক নজরে প্রকল্পের মূল বিষয়সমূহ:
- বাজেট বৃদ্ধি: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের খাবারের মাথাপিছু বাজেট বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।
- কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা: পুরনো কোনো মিড-ডে মিল কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে না; উল্টে তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: আগামী তিন মাসের মধ্যে আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীকে এই আওতায় আনা হবে এবং ধাপে ধাপে পুরো রাজ্যেই এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে।
