“কাঁটাতারের বেড়ায় আমাদের ভয় দেখানো যাবে না!” শুভেন্দু সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের সীমান্ত নীতি নিয়ে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সোমবার সাফ জানিয়েছেন, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
হুমায়ুন কবির স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, নির্বাচনী প্রচারণার ভাষা আর প্রশাসনিক কাজকর্মের মধ্যে পার্থক্য থাকা উচিত। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান মনোভাব পর্যবেক্ষণ করছেন বলে উল্লেখ করেন। মূলত, সীমান্তের নিরাপত্তা ও বেড়া দেওয়ার ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কড়া অবস্থানকে ভালো চোখে দেখছে না ঢাকা। উপদেষ্টা কবিরের মতে, ভারত সরকার যদি জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে সীমান্ত ইস্যুতে আরও ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর যদি জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বা ‘পুশ-ব্যাক’-এর মতো ঘটনা ঘটে, তবে ঢাকা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই কঠোর সীমান্ত নীতি এবং বাংলাদেশের পাল্টা হুঁশিয়ারির ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে হত্যা বা বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলে তারা চুপ করে থাকবে না। সরাসরি ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান চায় ঢাকা, তবে সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ছাড় দিতে তারা নারাজ।
