কেন সোনা কেনায় নিষেধাজ্ঞা দিলেন প্রধানমন্ত্রী? ১৯৮০-র সেই ধসের পুনরাবৃত্তি কি আসন্ন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত দেড় বছর ধরে আকাশছোঁয়া সোনার দাম সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভারতে বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বাজারের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা না কেনার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহবানের পর বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মনে আশির দশকের সেই ভয়াবহ বাজার ধসের স্মৃতি পুনরায় ফিরে আসছে।
১৯৮০ সালের সেই প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
১৯৮০ সালের শুরুতেও বর্তমান সময়ের মতো বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছিল। ইরান বিপ্লব ও আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের ফলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মানুষ সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে ঝুঁকছিল। ফলে ১৯৮০ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড ৮৫০ ডলারে পৌঁছায়। তবে মুদ্রাস্ফীতি রুখতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার একধাক্কায় ১৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে বাড়িয়ে দিলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ব্যাংকে অর্থ জমা করতে শুরু করেন। এর ফলে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল।
বাজারের সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট আংশিক ১৯৮০ সালের মতো মনে হলেও কিছু প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলার ছুঁয়েছে। তবে ১৯৮০ সালের তুলনায় বড় সুবিধা হলো ভারত ও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সোনা মজুত করছে, যা বাজারকে হুট করে ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোনার দামে বড় ধরনের সংশোধন (Correction) আসার সম্ভাবনা প্রবল। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার মধ্যে নেমে আসতে পারে। তবে ডলার অত্যন্ত শক্তিশালী হলে বা যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটলে এটি ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। চরম মন্দা দেখা দিলে দাম ১ লক্ষ টাকার ঘরে নামা আসাম্ভব নয়, যদিও সেই সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত ক্ষীণ। এই অনিশ্চয়তার কারণে বিশেষজ্ঞরা এই মুহূর্তে এককালীন বড় বিনিয়োগ না করে সিপ (SIP) বা ডিজিটাল গোল্ডের মাধ্যমে অল্প অল্প করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
