কাটল তৃণমূল আমলের জট, রাজ্যে অবশেষে চালু হচ্ছে পিএম চা শ্রমিক যোজনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ টালবাহানা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন আটকে থাকায় রাজ্যের চা শ্রমিকদের কল্যাণে বরাদ্দ প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা এতদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে গতি এসেছে।
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অবসান
গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষের বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে গৃহস্থের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বহু গ্রাহক ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হন। টি বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, চা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পটির নামের শুরুতে ‘পিএম’ বা প্রধানমন্ত্রী শব্দটি যুক্ত থাকায় পূর্বতন সরকার এটি বাস্তবায়নে সায় দেয়নি। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য বাধ্যতামূলক রাজ্য স্তরের কমিটি বা ‘এসএলসি’ গঠন করা হয়নি। যেখানে প্রতিবেশী রাজ্য আসাম এই যোজনা থেকে ইতিমধ্যে ২৯৩ কোটি টাকার সুবিধা গ্রহণ করেছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের চা শ্রমিকরা পিএম শিক্ষা, সুরক্ষা ও আশ্রয় যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলি থেকে সম্পূর্ণ ব্রাত্য ছিলেন।
চা বলয়ে নতুন আশার আলো
রাজনৈতিক সংঘাত দূর হওয়ায় চা বলয়ের অর্থনীতিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি মুরুগান জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই স্টেট লেভেল কমিটি গঠিত হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী, জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর দ্রুত এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা চা বাগানগুলির প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করে সমস্যা মেটানো, নেপালি চায়ের আমদানিজনিত উদ্বেগ নিরসন এবং দার্জিলিং চায়ের হারানো গৌরব ফেরাতেও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই যোজনাটি পুরোদমে বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার চা শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক সুরক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
