কালীঘাটে সিআইডি হানা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন কল্যাণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সই জালিয়াতির একটি মামলার সূত্র ধরে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সরাসরি হানা দিল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট কার্যালয়ে। মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত প্রস্তাবনাপত্রের আসল কপির খোঁজে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে এই অতর্কিত অভিযান চালানো হয়। কোনো রকম পূর্ব নোটিস বা সমন ছাড়াই এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে তৈরি হয় নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি।
কুণাল-মদনের পাহারায় কল্যাণের রুদ্রমূর্তি
সিআইডি আধিকারিকরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই তল্লাশিকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক হেনস্থা’ বলে দেগে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তকারীরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করছেন। দলীয় নেত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিরোধীরা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ওপরেও মেজাজ হারাতে দেখা যায় তাকে। তবে এই চরম উত্তেজনার মাঝেও দলের পুরনো দুই বিশ্বস্ত নেতা কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে কার্যালয়ের বাইরে ঠায় বসে থাকতে দেখা যায়, যা সংকটময় মুহূর্তে নেত্রীর সুরক্ষা বলয় হিসেবেই কাজ করেছে।
তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও আইনি হুঁশিয়ারি
বৈঠকের রেজুলেশনের কপি উদ্ধারের জন্য সিআইডির এই ধরনের তল্লাশি অভিযানকে প্রকাশ্যে উপহাস করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারীদের আইনি মেধা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, সিআইডি সঙ্গে করে বিজেপির লোকজনদের সাক্ষী হিসেবে নিয়ে এসেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নির্বাচন সংক্রান্ত সই জালিয়াতির আইনি জল বহুদূর গড়ানোর ফলেই এই তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী দল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেল, যার জেরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
