কালীঘাটে সিআইডি হানা, এবার স্ক্যানারে মমতার বোন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে কালীঘাট। বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় সিআইডি আধিকারিকদের হঠাৎ উপস্থিতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে এবার তদন্তকারীদের গন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ছিল না, বরং তাঁরা হানা দেন মুখ্যমন্ত্রীর বোনের আবাসনে।
হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে রহস্যের জাল
স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি আধিকারিকরা কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ২৯/ডি নম্বর ফ্ল্যাটে পৌঁছান। আবাসনে প্রবেশের আগে তাঁরা স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গেও কথা বলেন। প্রতিবেশীদের বয়ান অনুযায়ী, ওই ভবনের দোতলায় মুখ্যমন্ত্রীর বোন বসবাস করেন এবং তদন্তকারীরা সরাসরি সেখানেই যান। তবে ঠিক কোন অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে এই আকস্মিক অভিযান, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
সাম্প্রতিক অতীতে বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলা এবং ‘ডিজে মন্তব্য’ বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল থেকেছে। এই মামলাগুলির সূত্র ধরে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়েও সিআইডি তল্লাশি চালিয়েছে। ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়, যদিও বর্তমানে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ২১ দিনের আইনি রক্ষাকবচে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো সেই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তের রেশ ধরেই এই নয়া তল্লাশি অভিযান হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে। সিআইডি হানার প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট হলেও, এই ঘটনাটি আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্রতর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
