ফের ভবানী ভবনে জোড়া মামলায় সিআইডির মুখোমুখি অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের রাজনীতিতে ফের তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে সিআইডির তলব পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে আবারও ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন আগেই এই একই মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এবার তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই তলব রাজনৈতিক মহলকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
একদিকে সই জালিয়াতি বিতর্ক এবং অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের সময় করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলায় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার এই জোড়া নোটিস তৃণমূল শিবিরে চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া তলব ও মুখোমুখি জেরা
বিধানসভার একটি বৈঠকের রেজোলিউশনে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের তদন্ত করছে সিআইডি। এই মামলার সূত্র ধরেই আগামী রবিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। সূত্র মারফত জানা গেছে, পূর্ববর্তী জেরার বয়ান ও তথ্যের সূত্র ধরেই আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করতে চাইছে সিআইডি। এই একই মামলায় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও তলব করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে অথবা আলাদাভাবে বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে।
এর পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনের সময় এক জনসভায় ডিজে বাজানো সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভিন্ন মামলায় সিআইডির আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই শীর্ষ তৃণমূল নেতাকে।
আমফান ত্রাণ নিয়ে নতুন এফআইআর ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ত্রাণ বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে এই মামলায়। যদিও এই নতুন অভিযোগের তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সই জালিয়াতি, বিতর্কিত মন্তব্য এবং আমফান ত্রাণ দুর্নীতি—এই তিন জোড়া আইনি চ্যালেঞ্জের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বারবার কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সংস্থায় হাজিরা দেওয়ার ঘটনাটি তৃণমূলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী কয়েক দিনের তদন্তের অগ্রগতি ও ভবানী ভবনের জিজ্ঞাসাবাদের ওপরই নির্ভর করছে এই মামলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মোড়।
