কিম জং উন খুন হলেই আছড়ে পড়বে পরমাণু বোমা! উত্তর কোরিয়ার নতুন সংবিধানে বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার নিজেদের পরমাণু নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনল উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেশটির সংবিধানে এক চাঞ্চল্যকর সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে লক্ষ্য করে কোনো হত্যাচেষ্টা বা সামরিক হামলা চালানো হলে দেশটির সেনাবাহিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুপক্ষের ওপর পারমাণবিক হামলা শুরু করবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং শীর্ষ নেতাদের ওপর ড্রোন হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেই কিম জং উন এমন কঠোর সুরক্ষা কবচ তৈরি করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় পাল্টা আঘাত
উত্তর কোরিয়ার সংশোধিত পরমাণু নীতি বা ‘নিউক্লিয়ার পলিসি অ্যাক্ট’-এর ৩ নম্বর ধারাটি সবচেয়ে ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। এতদিন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের চাবিকাঠি ও কমান্ড সরাসরি কিম জং উনের হাতে ন্যস্ত ছিল। তবে নতুন বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো কারণে কিম জং উন দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে কোনো নির্দেশের অপেক্ষা না করেই সেনাবাহিনী পাল্টা আঘাত হানতে পারবে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ কমান্ড ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়লে শত্রুর বিনাশ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব
এই আইনি পরিবর্তনের ফলে কোরীয় উপদ্বীপসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেল। পিয়ংইয়ংয়ের এমন সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করছে এবং এই নতুন আইন যুদ্ধের উসকানিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার অভিজ্ঞতার পর কিম জং উন নিজের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বকে কার্যত এক বিশাল ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে সংশোধন এনে কিম জং উনের সুরক্ষায় পরমাণু হামলার স্বয়ংক্রিয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- কিম জং উন নিহত বা নিখোঁজ হলে সেনাবাহিনী সরাসরি শত্রুপক্ষের ওপর পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে।
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া নিজেদের রক্ষায় এই কৌশল নিয়েছে।
- এই নতুন আইনের ফলে কোরীয় অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
