নিজের চেম্বারে আড়িপাতা ধরে ফেললেন জেলাশাসক, ফাঁস হলো সরকারি গোপনীয়তা ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

নিজের চেম্বারে আড়িপাতা ধরে ফেললেন জেলাশাসক, ফাঁস হলো সরকারি গোপনীয়তা ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রদেশের দমোহ জেলায় এক চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দাগিরির ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন খোদ জেলাশাসক প্রতাপ নারায়ণ যাদব। বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, জেলাশাসকের দপ্তরে নেওয়া অত্যন্ত গোপনীয় সিদ্ধান্তগুলো মুহূর্তের মধ্যেই বাইরে জানাজানি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কোনো দপ্তরে অতর্কিত অভিযানের পরিকল্পনা করলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় সন্দেহ দানা বাঁধলে নিজের উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে দপ্তরের ভেতরের নজরদারি হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি।

চতুর কৌশলে গোয়েন্দাগিরি ফাঁস

কোনো মেমো বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের পথে না হেঁটে জেলাশাসক নিজেই একটি কৌশলী ফাঁদ পাতেন। তিনি নিজের চেম্বারে মোবাইল ফোনে উচ্চশব্দে সংবাদ সম্প্রচার চালিয়ে দিয়ে পাশের পিএ (পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) রুমে চলে যান। সেখানে রাখা ইন্টারকম বা টেলিফোন রিসিভার কানে তুলতেই তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে, তার নিজের ঘরের শব্দ সেখানে স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে। তদন্তে দেখা যায়, টেলিফোন লাইন কৌশলে টেম্পারিং বা কারিগরি পরিবর্তন করে জেলাশাসকের কক্ষের প্রতিটি কথা শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

প্রশাসনের অন্দরে দীর্ঘকালীন ষড়যন্ত্র

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই নজরদারি ব্যবস্থা অনেক বছর ধরে সক্রিয় ছিল। জেলাশাসকের গোপন আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল এবং প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্তগুলো এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার করা হতো। মূলত ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অভিযানের হাত থেকে বাঁচাতেই দপ্তরের এক শ্রেণির কর্মচারী এই কাজ করে আসছিলেন। জেলাশাসকের এই সাহসী অভিযানে প্রশাসনের ভেতরের এক গভীর ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস হলো।

এক ঝলকে

  • দমোহ জেলাশাসক প্রতাপ নারায়ণ যাদব নিজের চেম্বারে আড়িপাতার ঘটনা হাতেনাতে প্রমাণ করেছেন।
  • টেলিফোন লাইনে কারিগরি কারসাজি করে গোপন কথা পাচারের জন্য ব্যবহৃত হতো পিএ রুম।
  • অতর্কিত অভিযানের তথ্য আগেভাগে ফাঁস করে দুর্নীতিগ্রস্তদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
  • ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের অন্দরে এই গোপন নজরদারি চলছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *