কোন কোন পশুর কুরবানি করা যায় না? জেনে নিন ইসলামের কঠোর নিয়মাবলী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইদুল আযহা বা বকরি ইদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেশজুড়ে নানামুখী তৎপরতা দেখা যায়। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে কুরবানির পশুর প্রাপ্যতা ও সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হলেও ইসলামের মূল বিধানে কুরবানির বিষয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নিয়মাবলি রয়েছে। আল্লাহর প্রতি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণে মূলত এই উৎসব পালিত হয়, যেখানে পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পশু নির্বাচনের কঠোর শর্তাবলী
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত পশুটি অবশ্যই সম্পূর্ণ সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। কোনো অন্ধ, খোঁড়া, শিং ভাঙা, কান কাটা, গুরুতর অসুস্থ বা অত্যন্ত দুর্বল পশু কুরবানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামে পশুর প্রতি মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা কিংবা পশুর সামনে ছুরি ধার দেওয়া অনুচিত বলে গণ্য হয়। নির্দিষ্ট বয়সের সীমারেখাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেমন ছাগল বা ভেড়ার বয়স কমপক্ষে ১ বছর, গরু বা মহিষের ২ বছর এবং উটের বয়স ন্যূনতম ৫ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক।
আর্থিক সামর্থ্য ও সামাজিক প্রভাব
কুরবানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, এটি কেবল ‘সাহিবে নিসাব’ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সম্পদের অধিকারী সক্ষম ব্যক্তিদের ওপরই ফরজ করা হয়েছে। ঋণগ্রস্ত বা অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য কুরবানি করার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই। এই উৎসবের একটি বড় সামাজিক প্রভাব রয়েছে এর মাংস বণ্টন প্রক্রিয়ার মধ্যে। সংগৃহীত মাংসকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ দরিদ্রদের, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের এবং অবশিষ্ট অংশ নিজের জন্য রাখার নিয়ম রয়েছে, যা সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
এক ঝলকে
- ইসলামে অন্ধ, খোঁড়া, গুরুতর অসুস্থ বা অতিরিক্ত দুর্বল পশুর কুরবানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- কুরবানির জন্য ছাগল বা ভেড়ার বয়স কমপক্ষে ১ বছর, গরু বা মহিষের ২ বছর এবং উটের বয়স ৫ বছর হওয়া আবশ্যক।
- আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল বা ‘সাহিবে নিসাব’ ব্যক্তিদের ওপরই কেবল কুরবানি করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক।
- কুরবানির মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ বাধ্যতামূলকভাবে দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের মধ্যে বণ্টন করার নিয়ম রয়েছে।
