ক্যান্সারের টিউমার থেকে লিভারের রোগ, সাধারণ এই শাকই হতে পারে অব্যর্থ দাওয়াই! – এবেলা

ক্যান্সারের টিউমার থেকে লিভারের রোগ, সাধারণ এই শাকই হতে পারে অব্যর্থ দাওয়াই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্রামবাংলার ক্ষেত-খামারে অযত্নে বেড়ে ওঠা অতি পরিচিত বথুয়া শাক এখন কেবল খাবারের পাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চিকিৎসার জগতে এক চমকপ্রদ নাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শাকের সঠিক ব্যবহার শরীরের অভ্যন্তরে থাকা ক্যান্সারের টিউমার, লিভারের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং পাথর জমার মতো প্রায় ২০টি জটিল রোগ নির্মূল করতে সক্ষম। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসে সহজলভ্য এই প্রাকৃতিক সম্পদে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন-এ রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

টিউমার ও পাথর নিরাময়ে বথুয়ার ভূমিকা

শরীরের কোনো অংশে টিউমার বা মাংসপিণ্ড দেখা দিলে বথুয়া গাছের শিকড়সহ পুরো অংশ শুকিয়ে পাউডার তৈরি করে কাথ হিসেবে সেবন করলে জাদুকরী ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪০০ গ্রাম জলতে ১০ গ্রাম এই পাউডার মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে তা ৫০ গ্রামে নামিয়ে আনলে একটি শক্তিশালী ওষধি তৈরি হয়। এই মিশ্রণ নিয়মিত সেবনে শরীরের অভ্যন্তরীণ টিউমার গলতে শুরু করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া বথুয়ার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে সেবন করলে কিডনির পাথর গলে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।

লিভার সুরক্ষা ও চর্মরোগের সমাধান

লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বথুয়া শাকের ঝোল বা সেদ্ধ জল অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যালকালি বা ক্ষার রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। শুধু অভ্যন্তরীণ রোগই নয়, এটি চর্মরোগের ক্ষেত্রেও সমান ফলদায়ক। বিশেষ করে দাউদ বা ত্বকের চুলকানি সারাতে বথুয়া সেদ্ধ জলর ব্যবহার কিংবা তিল তেলের সাথে এর রসের মিশ্রণ চমত্কার কাজ করে। এমনকি শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে কাঁচা পাতা বেটে প্রলেপ দিলে দ্রুত জ্বালাপোড়া শান্ত হয়।

পেশাদার ওষধি ব্যবহার

বথুয়া প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে—একটি লালচে এবং অন্যটি চওড়া সবুজ পাতার। হৃদরোগীদের জন্য লাল পাতার রস বিট লবণের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রবিদরা। এছাড়াও শিশুদের পেটের কৃমি দমন, পাইলস নিরাময় এবং নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে এই শাকের রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানেও এর উচ্চ খনিজ উপাদানের কারণে এটিকে একটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বথুয়া শাকের কাথ শরীরের অভ্যন্তরীণ টিউমার গলাতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
  • লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এটি প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে।
  • ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এই শাক কিডনির পাথর সারাতে অত্যন্ত কার্যকর।
  • চর্মরোগ, ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং হৃদরোগের জটিলতা কমাতেও এই ঘরোয়া দাওয়াই ব্যবহার করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *