ক্ষমতার লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিদেশের মাটি: জার্মানির গুরুদ্বারে তলোয়ার-ছুরির ঝনঝনানি, চলল গুলিও!

ক্ষমতার লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিদেশের মাটি: জার্মানির গুরুদ্বারে তলোয়ার-ছুরির ঝনঝনানি, চলল গুলিও!

জার্মানির মোর্স শহরের ডুইসবার্গ এলাকার একটি গুরুদ্বারে শিখদের দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই সংঘাত চলাকালীন আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, কৃপাণ এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উপাসনা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক পক্ষ আচমকা পেপার স্প্রে ছিটিয়ে হামলা শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ জন এই হাঙ্গামায় অংশ নেন, যার ফলে গুরুদ্বার চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ক্ষমতার লড়াই ও আর্থিক বিবাদ

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গুরুদ্বারের নতুন পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড অফ ডিরেক্টরস) নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত। বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং গুরুদ্বারের তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই আধিপত্য রক্ষার লড়াই একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় সেখানে বিশেষ পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করতে হয় এবং এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংঘর্ষের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে, তবে কোনো প্রাণঘাতী গুলি চলেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে; প্রাথমিকভাবে এটি ‘ব্ল্যাঙ্ক-ফায়ারিং’ পিস্তল হতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় বর্তমানে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

এক ঝলকে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

জার্মানির ডুইসবার্গের একটি গুরুদ্বারে দুই শিখ গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১১ জন আহত।

হামলায় কৃপাণ ও চাকুর পাশাপাশি পেপার স্প্রে এবং পিস্তল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ও গুরুদ্বারের ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *