ক্ষমতা যেতেই ভিড়ে ভাঁটা! একুশের মঞ্চের অদূরে ফুটপাতে ফুটছে মাত্র ৩৫ জনের ‘ডিম-ভাত’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একুশে জুলাই আর ‘ডিম-ভাত’—রাজ্য রাজনীতিতে এই দুটো শব্দ যেন একে অপরের সমার্থক। তবে এবার রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে, তৃণমূল ভেঙে দু’টুকরো। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ২১ জুলাইয়ের চেনা ছবিতে। হাজার হাজার মানুষের সেই ভিড় বা এলাহি খাওয়ার আয়োজন, এবার সবই অতীত।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- আয়োজন সামান্যই: তারামণ্ডল চত্বরে মমতার সভামঞ্চের অদূরে ফুটপাতেই চলছে ডিম-ভাত রান্না, তবে তা মাত্র ৩৫ জনের জন্য।
- মেনুতে নেই জাঁকজমক: ডাল বা তরকারি নয়, পাতপিছু বরাদ্দ কেবল ভাত আর দু’টো করে ডিম।
- বাধা দেওয়ার অভিযোগ: নদিয়ার তেহট্ট থেকে আসা কর্মীদের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে বাকিদের আসতে দেওয়া হয়নি।
কোথায় সেই এলাহি আয়োজন? আগে একুশে জুলাই মানেই সেন্ট্রাল পার্ক বা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে হাজার হাজার কর্মীর জন্য হাঁড়ি হাঁড়ি ডিম-ভাতের এলাহি বন্দোবস্ত থাকত। কিন্তু এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তারামণ্ডলের সামনে সভা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চ থেকে কিছুটা দূরে, চৌরঙ্গী রোডের উপর বিশপ হাউসের সামনের ফুটপাতে চলছে রান্না। বড় বড় হাঁড়ি-কড়াইয়ের বদলে এবার মাত্র ৩৫ জন কর্মীর জন্য ফুটছে ডিম-ভাত।
ভয় দেখিয়ে আটকানোর অভিযোগ তেহট্ট থেকে আসা মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মী রিন্টু মণ্ডল জানান, “আগে আমরা দেড়শো জন আসতাম, এবার মাত্র ৩৫ জন এসেছি। বাকিদের ভয় দেখিয়ে, মারধর করে আটকে দেওয়া হয়েছে।” তবে শত বাধা সত্ত্বেও, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও তাঁরা যে এখনও ‘দিদি’র সঙ্গেই আছেন, তা প্রমাণ করতেই ছুটে এসেছেন বলে জানান ওই কর্মীরা।
রাজনীতিতে ‘ডিম’-এর জোড়া অর্থ বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ‘ডিম’ বিষয়টি যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যেমন একুশে জুলাইয়ের মেনু হিসেবে ডিম-ভাত কর্মীদের কাছে বরাবরের আবেগ, অন্যদিকে পরাজয়ের পর থেকে এই ডিমই আবার তৃণমূল নেতাদের দিকে উড়ে আসছে জনতার ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে! রাজনৈতিক পালাবদল বা শিবিরের বিভাজন যাই হোক না কেন, একুশে জুলাইয়ের দিন সেই ডিম-ভাতই ফের একবার জায়গা করে নিল খবরের শিরোনামে।
