“ক্ষমাপ্রার্থনা ও সাফাই একসঙ্গে চলে না!” ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ মামলায় কুণাল ঘোষকে জরিমানা হাই কোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিবেদন: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার দায়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার এই মামলায় কুণালকে ২০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। পাশাপাশি, চার সপ্তাহের মধ্যে এই জরিমানা জমা না দিলে তিন দিনের কারাবাসের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বিশেষ বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় কুণাল ঘোষের তরফে দাবি করা হয়, তিনি ওই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং আদালতকে আসাম্মান করার কোনো উদ্দেশ্যই তাঁর ছিল না। তবুও আদালত যদি তাঁর মন্তব্যে আঘাত পেয়ে থাকে, তবে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।
এই প্রেক্ষিতেই আদালতের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আদালত অবমাননার মামলায় ক্ষমাপ্রার্থনা এবং নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই— এই দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।” আদালত মনে করছে, কুণাল এক দিকে ক্ষমা চেয়েছেন, আবার অন্যদিকে নিজের বক্তব্যকে সঠিক বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। তাই তাঁর এই ক্ষমাপ্রার্থনা আন্তরিক নয় এবং তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আদালত জানিয়েছে, কুণাল ঘটনাস্থলে না থাকলেও, সংবাদমাধ্যমে তাঁর মন্তব্য বিচারপতির নিরপেক্ষতা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করেছে।
একই মামলায় অভিযুক্ত সাতজন উচ্চ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীকেও দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তাঁদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও মানসিক হতাশার কথা বিবেচনা করে তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে আদালত।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, গত বছরের এপ্রিল মাসে উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে হাই কোর্ট চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চ। অবশেষে সেই মামলার চূড়ান্ত রায়েই কুণাল ঘোষ ও ওই চাকরিপ্রার্থীদের জরিমানা করা হলো।
