গরু পাচারকারীদের ডেরায় পুলিশের মেগা অপারেশন উদ্ধার বিপুল নগদ টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র

গরু পাচারকারীদের ডেরায় পুলিশের মেগা অপারেশন উদ্ধার বিপুল নগদ টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র

ওড়িশার উত্তর ও পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে গরু পাচার সিন্ডিকেট নির্মূল করতে এক নজিরবিহীন অভিযানে নেমেছে পুলিশ। বালেশ্বর, ভদ্রক এবং ময়ূরভঞ্জ জেলায় একযোগে চালানো এই তল্লাশিতে পাচারকারীদের বিশাল নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা ও মারণাস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়।

পূর্বাঞ্চল রেঞ্জের ডিআইজি পিনাক মিশ্রের নেতৃত্বে এই বিশাল অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের কোণঠাসা করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

মেগা অপারেশনের কৌশল ও প্রস্তুতি

মাবেশি চুরি এবং অবৈধ পাচারের ক্রমবর্ধমান অভিযোগ আমলে নিয়ে ওড়িশা পুলিশ এই বিশেষ পরিকল্পনা সাজায়। পাচারকারীদের ডেরা হিসেবে মোট ৩৬টি স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩২টি স্থানে সফলভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের বিশালত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই মেগা অপারেশনে ৮ জন অতিরিক্ত এসপি, ১৭ জন ডিএসপি এবং ২৫ জন ইন্সপেক্টরসহ মোট ১২৫ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

উদ্ধার বিপুল সম্পদ ও মারণাস্ত্র

পুলিশের তল্লাশিতে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত সম্পদের তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার গয়না। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু দুই ও চার চাকার যানবাহনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পাচারকারীদের কাছে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র। এতে স্পষ্ট যে, এই সিন্ডিকেট কেবল পাচার নয়, বরং সশস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত ছিল।

গ্রেপ্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি

এখন পর্যন্ত এই চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ভদ্রক থেকে ৬ জন এবং বালেশ্বর ও ময়ূরভঞ্জ থেকে ৪ জন করে ব্যক্তিকে ধরা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কিছু সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের মূল পান্ডাদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

পাচারের রুট ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ

তদন্তে উঠে এসেছে যে, বালেশ্বর এবং ময়ূরভঞ্জ জেলাকে পাচারকারীরা প্রধান করিডোর হিসেবে ব্যবহার করত। নজরদারি এড়াতে তারা মূলত গ্রাম্য রাস্তা ও নির্জন পথ দিয়ে গবাদি পশুদের প্রতিবেশী রাজ্যে পাঠাত। এই চক্রের কারণে স্থানীয় কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে এটি সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওড়িশায় গরু পাচার আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই অশুভ শক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

এক ঝলকে

ওড়িশার বালেশ্বর, ভদ্রক ও ময়ূরভঞ্জ জেলায় ৩২টি স্থানে একযোগে পুলিশি হানা।

অভিযানে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৫০ লাখ টাকা এবং প্রচুর সোনা ও রুপার গয়না।

পাচারকারীদের ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও একাধিক যানবাহন বাজেয়াপ্ত।

১৮ প্লাটুন পুলিশ বাহিনীর মেগা অপারেশনে এখন পর্যন্ত আটক ১৪ জন।

প্রতিবেশী রাজ্যে পাচারের রুট বন্ধ করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *