যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বিতাড়িত করে বিচ্ছেদ ছাড়াই স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে

উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলায় যৌতুকের ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। একটি বাইক, একটি মহিষ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকার লালসায় এক গৃহবধূকে তাঁর শিশুসন্তানসহ ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আইনি বিচ্ছেদ ছাড়াই ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে অবশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীতেও যৌতুকের অন্ধকার চিত্র
২০০৪ সালে গাজীপুর জেলার সৈদপুর থানার মির্জাপুর গ্রামের প্রদীপ যাদবের সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার সাধ্যমতো উপহার দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি প্রদীপের পরিবার। বিয়ের অল্প কিছু সময় পর থেকেই শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বাইক, মহিষ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকার দাবিতে নিয়মিত মারধর করা হতো ওই গৃহবধূকে। ২০০৬ সালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেও গৃহবধূর ওপর অত্যাচারের মাত্রা কমেনি।
বিচ্ছেদ ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ের স্পর্ধা
২০১১ সালে নির্যাতনের চরম পর্যায়ে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীর সমস্ত গয়না ও পোশাক কেড়ে নিয়ে তাঁকে এবং তাঁর কন্যাসন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। নিরূপায় হয়ে ওই মহিলা তাঁর বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ২০২০ সালে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁকে কোনো আইনি তালাক বা বিচ্ছেদ না দিয়েই প্রদীপ গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। নিজের অধিকারের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাঁকে পুনরায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি ব্যবস্থা
ভুক্তভোগী মহিলা প্রথমে স্থানীয় থানার সহযোগিতা চাইলেও অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের টালবাহানার সম্মুখীন হন। পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে তিনি সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দ্বারস্থ হন। এসপির কঠোর নির্দেশে অবশেষে স্থানীয় পুলিশ নড়েচড়ে বসে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী প্রদীপ যাদবসহ পরিবারের মোট পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধক আইন এবং নির্যাতনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সামাজিক ও আইনি বিশ্লেষণ
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়ে করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনাটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর নিরাপত্তাহীনতা এবং যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির টিকে থাকাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। দুই দশকের এই বঞ্চনার পর ভুক্তভোগী মহিলা এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে সন্তানসহ বিতাড়ন।
- একটি বাইক, মহিষ এবং ৫০ হাজার টাকার জন্য চলত নিয়মিত নির্যাতন।
- স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই ২০২০ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন অভিযুক্ত স্বামী।
- স্থানীয় পুলিশের অসহযোগিতার পর এসপির নির্দেশে অবশেষে মামলা দায়ের।
- স্বামীসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ধারায় তদন্ত শুরু।
