রুশ সমরাস্ত্রে সাজবে তালিবান বাহিনী, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই মস্কো-কাবুল ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় ঘুরিয়ে দিল রাশিয়া ও আফগানিস্তানের নতুন সামরিক চুক্তি। এককালের চরম শত্রু তালিবান সরকারের সঙ্গে এবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে হাত মেলাল ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। গত বুধবার মস্কোতে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি সের্গেই শোইও-র মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অতীতে আফগানিস্তান থেকে রুশ সেনা বিতাড়নে যে ‘মানববোমা’ বা আত্মঘাতী বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই যোদ্ধারাই এবার রাশিয়ার আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হতে চলেছে। এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক তরজা।
চুক্তির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা সমীকরণ
চুক্তির প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী, রাশিয়া তালিবান সেনাকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও উন্নত মানের ড্রোন সরবরাহ করবে। সেই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী করতে তালিবান বাহিনীকে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে রুশ বিশেষজ্ঞরা। সরকারিভাবে এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-এর যৌথ মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে একের পর এক ভাড়াটে সৈন্য ও উত্তর কোরিয়ার সেনা ব্যবহারের পর এবার তালিবান শক্তিকে পরোক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে মস্কো।
ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এককালে তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকেই কাবুলের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় মস্কো। ২০২৫ সালে তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই সামরিক চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া এই বিপুল পরিমাণ আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে দেবে না। সরকারিভাবে অস্বীকার করা হলেও, এর বিনিময়ে ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাকে তালিবান যোদ্ধারা পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে, যা সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে।
