তৃণমূলের সঙ্গে কোনো আপস নয়, দলবদলু নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করলেন শমীক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে দাঁড়ি টেনে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য বিজেপিতে কোনো জায়গা নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপি এবার অন্য দল থেকে নেতা আমদানির পথে হাঁটছে না। শমীকবাবুর মতে, তৃণমূল এবং দুর্নীতি বর্তমানে একে অপরের পরিপূরক এবং এই দলে ভালো বা খারাপ বলে কোনো বিভাজন নেই।
দলবদল ও সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে কড়া বার্তা
দলে সুযোগসন্ধানীদের ভিড় রুখতে এবং দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর যারা রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে তুলেছেন, সেই ‘চার ঘণ্টার বিজেপি কর্মীদের’ চিহ্নিত করে ছেঁটে ফেলা হবে। দল ও প্রশাসনের মধ্যে সীমারেখা টেনে দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের সরকার নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সরকার। প্রশাসন পরিচালনায় দল কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, তবে সরকারের কাজকর্মে ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বিজেপি।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও ধর্মীয় রাজনীতির প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন শমীকবাবু। তিনি বলেন, মুসলিমদের ‘সংখ্যালঘু মানসিকতা’ ঝেড়ে ফেলে দেশের প্রথম সারির নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কোনো মুসলিম প্রার্থী ছাড়াই রাজ্যে বড় জয় পাওয়া সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন সরকার জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। ধর্মীয় কট্টরপন্থাকে দেশ ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক উল্লেখ করে তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে না হেঁটে বিজেপি সংযমের পরিচয় দিচ্ছে এবং জনরোষের হাত থেকে তৃণমূলের বহু নেতাকে তাদের কর্মীরাই রক্ষা করেছেন।
