গর্ভাশয়ের মারণ রোগ ঠেকাতে বাংলায় বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ শুরু – এবেলা

গর্ভাশয়ের মারণ রোগ ঠেকাতে বাংলায় বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ শুরু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জরায়ু মুখ ক্যানসার বা সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধের বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে আজ থেকেই এই বিশেষ টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে এবার রাজ্য স্তরে বাস্তবায়িত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোথায় এবং কীভাবে সাধারণ মানুষ এই সুবিধা পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভারতে নারীদের মারণ রোগের তালিকায় ব্রেস্ট ক্যানসারের পরই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সার্ভিক্যাল ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বব্যাপী নারীদের আক্রান্ত হওয়ার নিরিখে এই ক্যানসার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এই রোগ প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

ঝুঁকির কারণ ও আক্রান্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি (HPV) সংক্রমণের কারণে জরায়ুর নিচের অংশ এবং যোনির মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই ক্যানসার বাসা বাঁধে। চিকিৎসকদের মতে, অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের ফলেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে এই ভাইরাস সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যায়। তবে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে ভাইরাসটি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে রূপ নেয়। ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৮ হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার রোগী।

লক্ষণ ও টিকার কার্যকারিতা

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যানসারের লক্ষণ চেনা কঠিন, কারণ এর উপসর্গগুলো অন্যান্য সাধারণ স্ত্রী রোগের মতোই। তবে যোনি থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত, মেনোপজের পর হঠাৎ রক্তক্ষরণ, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, তলপেটে তীব্র ব্যথা এবং সহবাসের পর যোনি এলাকায় যন্ত্রণা—এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই যদি এইচপিভি টিকা নেওয়া যায়, তবে তা শতভাগ কার্যকর হয়। সেই লক্ষ্যেই সরকারিভাবে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকার একটি ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সীরা এক বা দুটি ডোজ এবং ২১ বছরের বেশি বয়সীরা ছয় মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে পারেন। সরকারি এই কর্মসূচিতে টিকা নেওয়ার জন্য কিশোরীদের নির্ধারিত কেন্দ্রে পরিচয়পত্র ও অভিভাবকের সম্মতিপত্র নিয়ে যেতে হবে এবং টিকা নেওয়ার পর সুরক্ষার খাতিরে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *