গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস, টলিউডের দুর্নীতি তদন্তের আঁচ কি এবার ইমপা-তেও! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী সংগঠন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে স্টুডিও পাড়ায়। তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানি সহ একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই টলিউডের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, স্বরূপ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রযোজকদের সংগঠন ‘ইমপা’ (ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের অবস্থান এখন টলিপাড়ার অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়।
অভিযোগের আঁচ ও পিয়ার অবস্থান
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন যে টলিউডের অন্দরে ওঁর বিরুদ্ধে একটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যার আঁচ তিনি আগেই পেয়েছিলেন। তবে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত কিছু জানা নেই। ভুক্তভোগীরাই এই বিষয়ে সঠিক বলতে পারবেন উল্লেখ করে তিনি জানান, কেউ যদি সত্যিই দুর্নীতি করে থাকেন তবে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হবে। স্বরূপের এই পরিণতিতে নিজের কোনো আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে ইমপা সভাপতি সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজে কোনো অন্যায় করেননি, তাই গ্রেফতারির কোনো ভয় তাঁর নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং প্রমাণসাপেক্ষ।
ইমপা-র অন্দরে ক্ষমতার লড়াই ও শুদ্ধিকরণের দাবি
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ইমপা-র অন্দরেও বিদ্রোহের সুর জোরালো হয়েছে। শতদীপ সাহা, রতন সাহা ও পীযূষ সাহার মতো বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, পিয়ার কার্যকালে সংগঠনটি রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়েছিল এবং ‘বিশ্বাসের ভাইদের’ ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে আর্থিক তছরুপ ও স্বজনপোষণের মতো অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং ‘শুদ্ধিকরণ’ করতে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী আদালতের দ্বারস্থ হলেও আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তিতে আছেন পিয়াই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিনিই সভাপতি পদে থাকছেন এবং ইমপা অফিসে শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে পুলিশ প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি টলিউডের দীর্ঘদিনের চেনা পরিকাঠামোয় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। এর প্রভাবে টলিপাড়ার বিভিন্ন সংগঠনে রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করার জন্য চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ইমপা-র অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইনি লড়াই আগামী দিনে প্রযোজকদের একাংশের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনার স্বাভাবিক গতি সচল রাখার ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করার আশঙ্কা রাখছে।
