ঘাসফুল শিবিরে বড় ফাটল? কংগ্রেসের দরবারে তৃণমূলের বিধায়করা! বিস্ফোরক দাবি শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন কি আসন্ন? দিল্লির দরবারে বিধায়কদের আনাগোনায় শোরগোল
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তা এবার এক নতুন মোড় নিল। পরাজয়ের ধাক্কায় দল যখন কোণঠাসা, ঠিক সেই সময়েই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এক বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। শমীকবাবুর দাবি, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তৃণমূলের একঝাঁক বিধায়ক ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।
তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্বহীনতার সংকট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই সম্ভাব্য ভাঙনের পেছনে রয়েছে দলের বর্তমান নেতৃত্বহীনতা। নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের মধ্যে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তা আজ আর গোপন নেই। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কাকলী ঘোষ দস্তিদারের মতো নেতাদের প্রকাশ্যে সংঘাত দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘দিদি আর ফোসফাঁস করতে পারবেন না’—এমন ধারণা থেকেই তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির রাজনীতি ও বিধায়কদের ভবিষ্যৎ
শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নিশ্চিত খবর রয়েছে যে তৃণমূলের বহু বিধায়ক ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তৃণমূল দলটিকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি এক প্রকার বিদ্রূপই করেছেন। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তৃণমূলের বহু নেতাই একসময় কংগ্রেস থেকে উঠে এসেছিলেন। তাই চরম দুর্দিনে পুনরায় ‘মাতৃসংগঠন’ বা কংগ্রেসের ছাতার তলায় ফিরে গিয়ে নিজেদের বিধায়ক পদ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার এই কৌশলকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না। এখন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযোগের বিপরীতে কী অবস্থান নেয় এবং বাংলার রাজনীতি কোন নতুন সমীকরণের দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতুহল।
