চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড ঘিরে চড়ছে রাজনীতির পারদ, সরাসরি ‘শীর্ষ নেতৃত্বকে’ নিশানায় বিজেপি

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। এই ঘটনাকে নিছক অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ও প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হত্যা’ বলে দাবি করেছেন। এই আবহে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নাম না করে নিশানা করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ।
তৃণমূলের উচ্চস্তরের দিকে অভিযোগের আঙুল
বারাসত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থেকে রাহুল সিংহ বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও, ‘পিসি-ভাইপো’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ তৃণমূলের উচ্চস্তর থেকে এসেছে। তাঁর মতে, যেভাবে দক্ষ পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে এর পেছনে বিপুল অর্থ ও প্রভাবশালী মহলের মস্তিষ্ক কাজ করছে।
পাল্টা চাপে শাসকদল ও তদন্তের দাবি
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে। তবে একইসঙ্গে তারা ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাদের তিন কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এই দাবি তুলে পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।
কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা ও কড়া হুঁশিয়ারি
উত্তপ্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নিচুতলার কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাহুল সিংহ কর্মীদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন যে, আইন নিজের পথেই চলবে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীক ভট্টাচার্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিজেপি শান্ত থাকলেও তাকে দুর্বল ভাবা ভুল হবে। বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার প্রভাব আগামী দিনে সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
