১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৬ নিয়ে প্রস্তুত ভারত! বিশ্ব রাজনীতিতে বাড়ছে প্রতিরক্ষা শক্তি

ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) তাদের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত নিশ্চিত করেছেন যে, এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত কাজ শেষ এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন কেবল সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই বঙ্গোপসাগরের আকাশে ডানা মেলবে এই শক্তিশালী মারণাস্ত্র।
এমআইআরভি প্রযুক্তি ও অজেয় সক্ষমতা
অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লা এবং অত্যাধুনিক এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি। মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল বা এমআইআরভি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা সম্ভব, যা ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। এর ফলে শত্রুপক্ষের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর মিসাইলকে ফাঁকি দেওয়া অনেক সহজ হবে। মূলত এই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বিশ্বের এলিট ক্লাবে প্রবেশের পথে ভারত
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে পূর্ণ আইসিবিএম সক্ষমতা রয়েছে। অগ্নি-৬-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতকে এই শক্তিশালী ও অভিজাত দেশগুলোর সারিতে জায়গা করে দেবে। বঙ্গোপসাগরে জারি করা সাম্প্রতিক ‘নোটাম’ (NOTAM) এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরীক্ষাটি খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
একই সময়ে ভারত তার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা ঘণ্টায় ১২,০০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম। এই জোড়া সামরিক সাফল্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের আধিপত্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার এই সক্ষমতা ভারতের সামুদ্রিক ও স্থলভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
