চম্পাবত কাণ্ডে তোলপাড়: ধর্ষণের গল্প সাজিয়ে তিনজনকে ফাঁসানোর ছক, শ্রীঘরে মূল পাণ্ডারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরাখণ্ডের চম্পাবতে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এল বিস্ফোরক তথ্য। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল, তদন্তে দেখা গেছে তা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এক নাটক। ধৃতদের তালিকায় নাম উঠে এসেছে প্রাক্তন বিডিসি সদস্য কমল এবং তাঁর এক বান্ধবী অর্জিতার। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে আনন্দ মাহরা নামে এক স্থানীয় নেতারও। পুলিশি তদন্ত ও নির্যাতিতার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তিন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এই ধর্ষণের ছক কষা হয়েছিল।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আসল কারণ
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন সল্লি গ্রামে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত যত এগিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ততই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের হাতে আসা একটি ভিডিওতে কিশোরী নিজেই স্বীকার করেছে যে, তার ওপর কোনো শারীরিক নির্যাতন হয়নি। বরং কমল রাওয়াত ও অর্জিতার প্ররোচনায় সে ধর্ষণের নাটক সাজিয়েছিল। নির্দিষ্ট কয়েকজনকে সামাজিক ও আইনিভাবে হেনস্তা করতেই এই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়। এমনকি কিশোরীর পা বেঁধে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে পরিস্থিতিটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্তরা।
স্বীকারোক্তি ও পুলিশের তৎপরতা
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই কিশোরী স্পষ্ট জানিয়েছে, সে কোনো চাপের মুখে নয় বরং সজ্ঞানেই সত্যিটা বলছে। তার দাবি, যাদের বিরুদ্ধে সে অভিযোগ করেছিল, তারা নির্দোষ। এই ঘটনার রেশ ধরে কিশোরীর ভাইও মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কমল রাওয়াত তাকে ভয় দেখিয়ে এবং মিথ্যে তথ্য দিয়ে পুলিশের কাছে চিঠি লিখতে বাধ্য করেছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পারার পর তিনিও জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন। চম্পাবতের পুলিশ সুপার রেখা যাদব জানিয়েছেন, ভিডিওগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং ষড়যন্ত্রের দায়ে কমল ও অর্জিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক তৃতীয় অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে ফাঁসানোর এই অপচেষ্টা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে প্রকৃত নির্যাতিতাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
