চরম ধাক্কা বাণিজ্যে! ভারতের উপর ১০% শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘ফোর্সড লেবার’ বা জোর করে শ্রম করিয়ে পণ্য তৈরির আমদানি ঠেকাতে আরও কঠোর অবস্থান নিল আমেরিকা। ভারত সহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) চাপাল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলেও ভারতীয় সময়ে তা শনিবারে গিয়ে পড়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই দেশগুলি জোর করে শ্রমিকদের দিয়ে পণ্য তৈরি করাচ্ছে এবং অতীতে সেই সব পণ্যের আমদানি রুখতে যথেষ্ট কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট থেকে এই নতুন ট্যারিফ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে পূর্বের অস্থায়ী ১০ শতাংশ ট্যারিফ বাতিল হয়ে নতুন এই নিয়ম চালু হলো। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে ভারত।
কোন কোন দেশ রয়েছে এই তালিকায়?
সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের নাম রয়েছে প্রথমসারিতে। ভারত ছাড়াও আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা সহ মোট ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং সুইৎজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ এবং চিনসহ বাকি ৩৮টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ (১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত) বাতিল করে দিয়েছিল। সেই আইনি ধাক্কা কাটিয়ে এবার সম্পূর্ণ নতুন আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও শেষ পর্যন্ত এটি আইনি বৈধতা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।
মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভ জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রসঙ্গে জানান, ‘প্রায় ১০০ বছর ধরে আমেরিকায় জোর করে কাজ করিয়ে তৈরি হওয়া পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে মেনে চলি। এবার আমাদের বাণিজ্য সঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’ তিনি আরও জানান যে, এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা করা।
কোন কোন পণ্য ছাড় পাবে?
স্বস্তির বিষয় হলো, সমস্ত পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়। তেল ও গ্যাস, সার, কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণে পূর্বে থেকেই শুল্কের আওতায় থাকা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও গাড়ির মতো পণ্যগুলিকে এই নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই আরোপ করা হবে।
তবে আমেরিকার এমন একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিশ্বমঞ্চে। নরওয়ে জানিয়েছে যে তারা আগেই জোর করে কাজ করানোর বিরুদ্ধে কড়া নিয়ম চালু করেছে, ফলে এই শুল্ক সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ট্যারিফ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাবে বলে জানিয়েছে।
