চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ছে নাসা, ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্পে ভারতকে পাশে চাইল আমেরিকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চাঁদে কেবল সাময়িক সফর নয়, বরং সেখানে মানুষের স্থায়ী বসবাস ও গবেষণার জন্য একটি বিশাল পরিকাঠামো বা ‘মুন বেস’ গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। আর এই ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্পে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে ভারতকে পাশে চাইছে আমেরিকা।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ভারত-মার্কিন ‘সিভিল স্পেস জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর নাসার এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোকে (ISRO) আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের মতে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
‘মুন বেস’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই স্থায়ী ঘাঁটিটি তৈরি করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
- নিরবচ্ছিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়া।
- প্রতিকূল পরিবেশে জীবন ধারণের উপযোগী প্রযুক্তি পরীক্ষা করা।
- চাঁদের গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশ অভিযানে (Deep Space Exploration) নিজেদের মজবুত অবস্থান তৈরি করা।
ভারতের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
এই যৌথ উদ্যোগে বড় প্রভাব ফেলছে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’ (Artemis Accords) চুক্তি, যেখানে ২০২৩ সালে ভারত ২৭তম সদস্য দেশ হিসেবে স্বাক্ষর করে।
ইসরোর সফল ‘চন্দ্রযান-৩’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিশ্বজয়ের ইতিহাস গড়েছিল ভারত। ফলে ওই দুর্গম অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণে ভারতের কাছে যে মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা নাসার এই প্রকল্পকে সফল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাকাশে ভারতের নতুন উড়ান
ভারত বর্তমানে তার নিজস্ব ‘স্পেস ভিশন ২০৪৭’-এর অধীনে গগনযান, পরবর্তী চন্দ্রযান মিশন এবং নিজস্ব ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (BAS) তৈরির কাজে জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। নাসার এই প্রকল্পে যুক্ত হলে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পরিধি আরও বিস্তার লাভ করবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়ের (Open Scientific Data Sharing) ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। চাঁদের মাটিতে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং আমেরিকার প্রযুক্তির এই যৌথ জুড়ি মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
