চাকরির মায়া ত্যাগ করে ঘরে বসেই আইপিএস, পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনের অনুপ্রেরণাদায়ী সাফল্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশ সেবার অদম্য ইচ্ছা আর কঠিন পরিশ্রম কীভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ অভিষেক চৌহান। পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। লোভনীয় করপোরেট চাকরি ও স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অবদান রাখার স্বপ্ন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত। আর সেই লক্ষ্যের টানেই লাখ লাখ টাকার বেতনের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন অভিষেক। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করে আইপিএস অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
করপোরেট চাকরি ছেড়ে ঘরের মাঠে সেলফ-স্টাডিতে বাজিমাত
ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দিল্লির কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে অভিষেক সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নেন। শুরুতে বেঙ্গালুরুতে প্রস্তুতি নিলেও পরবর্তীতে নিজের শহর বিহারের হাজিপুরে ফিরে আসেন তিনি। বাড়িতে বসেই বইপত্র এবং অনলাইন রিসোর্সের সাহায্যে সেলফ-স্টাডি চালিয়ে যান। দিল্লির ঝাঁ চকচকে কোচিং সেন্টার ছাড়াও যে একাগ্রতা এবং সঠিক স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে এই সর্বভারতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব, অভিষেক তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাঁর এই লড়াই প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক অবস্থান বা ব্যয়বহুল কোচিংয়ের চেয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ও পড়াশোনার প্রতি নিষ্ঠা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ ও ‘প্ল্যান-বি’র গুরুত্ব
সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত বার্তা দিয়েছেন এই আইপিএস অফিসার। তাঁর মতে, অন্ধের মতো অন্য কাউকে অনুকরণ না করে নিজের শক্তির জায়গা বুঝে কৌশল তৈরি করা উচিত এবং প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সিলেবাস শেষ করার পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্নপত্র নিয়মিত অনুশীলন এবং কঠিন বিষয়গুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে এর পাশাপাশি জীবনের বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ভেঙে না পড়ে ‘প্ল্যান-বি’ বা বিকল্প কেরিয়ারের কথাও মাথায় রাখার বার্তা দিয়েছেন, যা আজকের যুবসমাজকে অন্ধ অনুসরণ থেকে বিরত রেখে এক নতুন দিশা দেখাবে।
