দিল্লির দরবারে বড় দায়িত্বে শমীক! বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি কে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই রাজ্য বিজেপির অন্দরে বড়সড় রদবদলের হাওয়া। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী বৈতরণী পার করার অন্যতম কারিগর, বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে এবার দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শমীককে সরানো হলে বাংলার সংগঠনের রাশ কার হাতে যাবে? দলীয় সূত্রে খবর, নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত এবং প্রবীণ মহিলা মুখ লকেট চট্টোপাধ্যায়।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এটি শমীক ভট্টাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা। তবে শমীকবাবু নিজে যদি দিল্লিতে যেতে আগ্রহী না হন, সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারেরই কোনও গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশনের শীর্ষ পদে তাঁকে বসানো হতে পারে।
বড় দায়িত্বে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী?
দলীয় সূত্রের খবর, বড় পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি ৬২ বছর বয়সী শমীক ভট্টাচার্যের শারীরিক পরিস্থিতিও এর অন্যতম কারণ। সম্প্রতি কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে রাজ্য সভাপতি হিসেবে জেলাজুড়ে লাগাতার রাজনৈতিক সফর করা তাঁর পক্ষে কিছুটা কঠিন।
একইসঙ্গে, ২০২৬ সালের এই সাফল্যের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে বাংলার সংগঠনে আরও তরুণ ও লড়াকু মুখকে সামনে আনতে। সেই দৌড়েই এখন জ্যোতির্ময় সিং মাহাত ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে দিল্লির সদর দফতরে জোর চর্চা চলছে।
এক বছরেই ইতিহাস গড়েছেন শমীক
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর সুকান্ত মজুমদার দায়িত্ব পেলেও দলের গ্রাফ আশানুরূপ বাড়েনি। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুলাই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেন শমীক ভট্টাচার্য। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়ে বিজেপিকে বাংলায় ক্ষমতায় এনে নজির গড়েন। আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মেটানোর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের মতো প্রবীণ নেতাদেরও মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনে দলের ভিত মজবুত করেছিলেন তিনি।
শুধু রাজ্য সভাপতিই নন, জানা যাচ্ছে বিজেপির গোটা রাজ্য কমিটি ও ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার সিংহভাগ সভাপতিকেও এবার বদলে ফেলা হবে। ফলে, নতুন রূপরেখায় বঙ্গ বিজেপি কেমন চেহারা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
